Sunday, January 31, 2016

আমার প্রিয় শিক্ষক

তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমাদের প্রোগ্রামিং ক্লাস নিতেন ফলিত পরিসংখ্যানের মাহবুব লাতিফ স্যার। সেই লোক জানতেন না উইন্ডোজ কি জিনিস। উবুন্টু চালাইতেন। প্রোজেক্টরে টার্মিনাল খুলে সব কিছু কমান্ড দিয়ে করতেন। ফোল্ডার খুলতেন কমান্ড দিয়ে, ফাইল খুলতেন কমান্ড দিয়ে। এর পরে ক্লাসের সবাই উবুন্টু ইন্সটল করা শুরু করলো। কেউ কেউ ইন্সটল দিতে গিয়ে পুরা কম্পিউটার ফরম্যাট করলো। কেউ প্রোগ্রামিং শিখবে না বলে সিধান্ত নিলো।
একদিন স্যার ক্লাসে এসে দেখে সবাই খুব খুশী। কেউ খুশীতে নাচ গান করছে। কারণ হিসেবে স্যার জানতে পারলো যে আমরা একটা মিড টার্ম পরীক্ষার সময় পিছিয়েছি। তাই সবাই খুশী। স্যার বললঃ
"দেখেন, আপনার পরীক্ষা পিছিয়ে ভালো ছাত্রদের জন্য সময় আরও বাড়িয়ে দিলেন। আপনার যারা পরীক্ষা পিছালেন, তারা এই খুশীতে পড়ালেখা করবেন না, এবং পরীক্ষা ও খারাপ দিবেন।"
স্যারের কথা সত্য ছিল ১০০%। পরীক্ষা পিছানোর নায়করা (বলা বাহুল্য আমি ও সেই দলে ছিলাম) সবাই পরীক্ষা খারাপ দিলো যথারীতি।
ঐ কোর্স শেষ হল। জীবনে মাত্র একটা থিওরি কোর্সে এ প্লাস পাইছিলাম। তা ঐ কোর্সে। (এই তথ্য না দিলে কোর্স থেকে অর্জন বুঝা যেতো না)। কিন্তু, তার পর স্যারের সাথে কাজ করা সুযোগ আসে। আমার থিসিসের বায়োইনফরমাটিক্স কাজের একটা অংশের কিছু অ্যানালাইসিস নিয়ে। জেবা ম্যাডামের অনলাইন কোর্সের কাজ করতে গিয়ে। মাঝে মাঝে স্যার ব্র্যাকে ক্লাস নিতে গেলে ওখানে গিয়ে ও স্যারকে বিরক্ত করতাম।
কেউ যখন শুনে বায়োকেমিস্ট্রিতে পড়ে আমার প্রিয় শিক্ষক লতিফ স্যার, কিছুটা অবাক হয়। সত্য কথা হল, অন্য কোন শিক্ষকের কাছ থেকে আমি এতোটা সহযোগিতা পাই নি।
ছোট বেলায় বানিয়ে বানিয়ে আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা লিখে নম্বর পেয়েছিলাম। আজকে সত্যিকারের রচনাটা স্ট্যাটাস দিলাম।

No comments:

Post a Comment