Showing posts with label বাস্তব ঘটনা. Show all posts
Showing posts with label বাস্তব ঘটনা. Show all posts

Tuesday, August 16, 2016

মেটাবোলিজম

ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরকে মেটাবলিজমের সম্পূর্ণ অংশ পড়িয়েছিলেন মূলত দুই জন স্যার। মামুন রশিদ এবং সাইদ স্যার। কার্বোহাইড্রেট (মামুন রশিদ স্যার), লিপিড (সাইদ স্যার) এবং নিউক্লিওটাইড (সাইদ স্যার)।
মামুন স্যার বোর্ডের মধ্যে তীর সূচক দাগ টেনে টেনে এক এক করে লিখতেন। তারপর একটা প্রশ্ন করতেন, সম্ভাব্য কি কি তার পর ঘটতে পারে এমন কয়েকটা জিনিস বলতেন অথবা আমাদের কাছ থেকে জানতে চাইতেন। তারপর কোনটা কি কারনে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর কি কারনেই বা অন্যটা লজিক্যাল তা ব্যাখ্যা করতেন। তারপর পরের স্টেপে যেতেন। সুতরাং, উনার ক্লাস মন দিয়ে শুনলে বায়োকেমিস্ট্রির কনসেপ্ট পরিষ্কার হতে বাধ্য।
অন্য দিকে সাইদ স্যার আমাদেরকে প্রচুর এনালিটিক্যাল প্রশ্ন করতেন। যার সঠিক উত্তর দিতে আমরা প্রায়ই ব্যার্থ হতাম। কিন্তু, উত্তর দেয়ার জন্য প্রচুর চিন্তা করা লাগতো। উনি সম্পূর্ণ পাথওয়ে থেকে কিছু একটা মুছে দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, এখন কি ঘটতে পারে? আমাদের মাথা খাটানো লাগতো অনেক। আর সাথে থাকতো অনেক অনেক বাড়ির কাজ। কোন একটা বিক্রিয়ার কোন একটা প্রোডাক্ট এর মলিকিউল গুলো আসলে কোথা থেকে আসতেছে, কোন স্টেপ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে- এই ধরনের বাড়ির কাজ। সত্যি কথা বলতে, অনেক সময় বিরক্ত লাগতো এমন বাড়ির কাজ। কিন্তু, বাস্তবতা হল, আজও আমি ঐ টেকনিক কাজে লাগিয়ে চমৎকার সব হাইপোথিসিস তৈরি করতে পারি।
উল্লেখ্য যে, উনাদের দুই জনের চোখেই আমি বেশ দুষ্টু ছিলাম হয়তো। কারণ, আমি ক্লাসে অনেক বেশি কথা বলতাম।

তনু সমাচার

মিড টার্ম আর ফাইনাল পরীক্ষার আগে আমরা সব ফ্রেন্ডরা (আমি, এমিল, সারোয়ার, আফসার, আরিফ, তনু, ফারুক) এক সাথে পড়ালেখা করতাম। যে যেই টপিক ভালো বুঝতো, তা অন্যদের এক্সপ্লেইন করতো। ফলে পড়ার চাপ অনেক গুনে কমে যেতো। কিন্তু, আমাদের মধ্যে তনু পড়ার চাপ আরও কমায় ফেলত। সবাই যখন পড়তো, সে গান শুনত, নাইলে চা খেয়ে বেড়াতো। আমরা যখন খাওয়ার জন্য বাইরে বের হতাম, তখন জিজ্ঞেস করতাম ওরে,
- কিরে তুই কিছুই পড়লি না, কিছুই সলভ করলি না। কালকে কি লিখবি?
- দোস্ত, যেই গুলো তোরা বলছিস সহজ, ঐ গুলো কালকে সকালে পড়লেই হবে। রাতে পড়ে টাইম নষ্ট না করাই ভালো। আর যেই গুলো তোরা কঠিন বলছিস, ঐ গুলো আমি পড়ে লাভ নাই, মনে থাকবো না। আর এই কারনেই আমার কোন পড়া নাই। তাই তো ঘুরে বেড়াই। 
আর পরীক্ষায় নাম্বারও খুব একটা কম পেতো না। তাই বলা যায় যে, ওর টেকনিক বেশ কার্যকর। 
তবে এই টেকনিক ফলো করে কেউ রেজাল্ট খারাপ করলে আমার কোন দোষ নাই। সব দোষ তনুর। 

প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা ব্যাপারটা খুবই কঠিন। এই ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানের সাথে সাথে অন্যদের অবস্থানের দিকে নজর রাখা লাগে। নিজের অবস্থানের চেয়ে অন্যদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। হয়তো বা এই কারনেই সকল ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক ব্যাপারে আমি পিছিয়ে। একটা উদাহারন দেই।
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়ানোর জন্য ডাকছিল। আমি দাড়ায় ছিলাম দূরে। এক স্যার আমাকে হাতে ধরে নিয়ে এসে দাড়া করায় দিলেন লাইনে। দৌড় দেয়া লাগবে। বাঁশির সাথে সাথে দৌড় দিলাম। প্রায় অর্ধেক পথ খুব দৌড়ে যাওয়ার পর কেন জানি মনে হল, বেশির ভাগ ছাত্রই আমার থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। আমি তখন ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্য পিছন দিকে ঘুরে তাকালাম। দেখলাম যে, আমার পিছনে আর কেউ নাই! তখন আমি সামনের দিকে না দৌড়ে উল্টা দিকে দৌড় দিলাম। কারণ, ফিতার কাছে সবার শেষে পৌঁছালে সারা জীবন সবাই এটা নিয়ে হাসাহাসি করবে। কিন্তু, পিছন দিকে ফিরে আসলে কেউ খেয়াল করবে না। কারণ, সবার চোখ থাকে ফিনিসিং লাইনের দিকে। আমি যখন উল্টা দিকে ফিরে গিয়ে মাথা নিচু করে হেটে ক্লাসের দিকে হেটে যাচ্ছিলাম, ঐ স্যার এসে আমাকে জড়ায় ধরলো।
আজও প্রতিযোগিতায় অ্যালার্জি রয়ে গেছে। প্রতিযোগিতায় জিতার চেষ্টায় আমরা মনে হয় নিজেকেই হারিয়ে ফেলি।

স্ট্যান্ড আপ থেকে উপার্জন

আজ থেকে প্রায় বছর চারেক আগে একদিন সবার সাথে হলের রুমে অনেক মজা করতেছিলাম। তখন হেলাল আমাকে বলছিল যে, তুমি স্ট্যান্ড আপ কমেডিতে ভালো করবা।
মাঝে অনেক সময় চলে গেছে। কমেডি শো দেখার নেশা থেকে এক সময় নিজেই করার চেষ্টা করলাম। তার ফলাফল স্বরূপ আজকেও একটা শো ছিল। কমেডিয়ান (জাপান, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, চায়না, বাংলাদেশ) অ্যান্ড দর্শক (কমপক্ষে ২০ দেশের হবে) - যে কোন দিক থেকেই এটাকে মারাত্মক গ্লোবাল শো বলা যায়।
শো শেষে যখন আমাকে টাকা (ইয়েন) ধরায় দিলো, আমি শুধু পকেটে ভরে হাটা দিলাম। কমেডিয়ান হিসেবে প্রথম উপার্জন! ট্রেনে ফিরে আসার পথে হেলালের ঐ দিনের কথা মনে পড়তেছিল।

মা

আজ টোকিও থেকে ফিরছিলাম। ট্রেনে আমার পাশের সীটে ছিলেন এক ভদ্র মহিলা আর তার বাচ্চা। আমি বরাবরের মতই পড়ার দিকে মনোনিবেশ করলাম। একটা বুক চ্যাপ্টার শেষ করার টার্গেট নিলাম ফিরার পথে। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম যে, পিচ্চি আমার দিকে তাকায় থাকে। এর পর পিচ্চির খাওয়ার সময় হল। সে যাই খায়, আমাকে খেতে বলে। পিচ্চির সাথে ইন্টার‍্যাকশনের কারনে ঐ ভদ্র মহিলার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ হল।
- তুমি কি করো?
- স্টুডেন্ট।
- তোমার কাজ কি মূলত? 
- পড়া এবং এক্সপেরিমেন্ট করা।
- এটা খুবই কঠিন কাজ বলে মনে করি আমি।
- তবে, আপনার কাজের চেয়ে অনেক সহজ।
- কিভাবে সহজ হল?
- আমি গত দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় খেয়াল করলাম যে, শুধু মাত্র পিচ্চিকে সামলানোর জন্য আপনাকে অনেক গুলো কাজ করা লাগছে। তাকে খাওয়ানো, সে একটু বসে থাকলে চিল্লায়, তাই তাকে নিয়ে উঠে গিয়ে হেটে আসা, তার সাথে খেলা করা ইত্যাদি। আর আমি কি করছি, শুধু বইটা খুলে কোন নড়াচড়া না করে তাকায় ছিলাম আর পড়ছি। কোনটা সহজ আপনিই বলেন।
- আমি কখন ট্রেনে কোন অপিরিচিত ফরেনারের সাথে কথা বলি নাই। তোমার এই এপ্রিসিয়েশন শুনে খুব ভালো লাগলো।
- আমি আসলে প্রায়ই ভাবি, আমার মা না জানি আমাকে বড় করার জন্য কি পরিমান কষ্ট করেছেন। আমি যেই কাজই করি না কেন, এর চেয়ে কঠিন কাজ দ্বিতীয়টা আর নেই।
- তোমার মা অনেক লাকি। যার সন্তান মাকে নিয়ে এভাবে ভাবে, সেই মা আসলেই লাকি।
- আসলে ঠিক তা না। আমি নিজেও আগে এমন ভাবতে পারি নাই। পরিবারের কাছ থেকে দূরত্ব বাড়ার পর, আমার এই সব রিয়েলাইজেশন আসছে।
বলে রাখা ভালো, জাপানের সব চেয়ে কিউট বস্তু হচ্ছে পিচ্চিরা। এর চেয়ে কিউট কোন কিছু আজ পর্যন্ত চোখে পড়ে নাই।

Saturday, April 30, 2016

আন্ডারগ্রেড মেন্টর

ল্যাবে আমার কাজের বাইরে অন্যতম ভালো লাগার কাজ হচ্ছে আন্ডারগ্রেডদেরকে এক্সপেরিমেন্টে সাহায্য করা। ওদেরকে একে বারে ব্যাসিক থেকে বুঝাতে গিয়ে আমি নিজেই আমার আন্ডারগ্রেড লাইফে ফিরে যাই বার বার। আর প্রতিবারই উপলব্ধি করি যে, টিচিং আমার জন্য না। কিছু সমস্যা আইডেন্টিফাই করতে পারলাম।
> ওরা আমাকে কেউ কেউ ভয় পায় বলে মনে হয়।
> আমি খুব দ্রুত কথা বলি। যা ফলো করা মনে হয় কঠিন।
> আমি কিছু দেখাতে গিয়ে নিজেই করে ফেলি। ওদের করার সুযোগ কম দেই।
অন্য কাউকে কিছু দেয়ার আগে, নিজেকে দেয়ার আছে অনেক কিছু। আরও গভীর এবং একনিষ্ঠতা প্রয়োজন। ইংরেজিতে বললে "ফোকাস" আরও বাড়ানো দরকার। এর কোন বিকল্প নাই।

আধুনিক সমাজে বিয়ে

"আধুনিক সমাজ ব্যাবস্থা আমাদের জন্য বিয়ে করা করেছে কঠিন, কিন্ত প্রেম ভালোবাসা এবং এক্সট্রা মেরিটাল রিলেশনকে করেছে সহজ লভ্য।"
-জনৈক বড় ভাইয়া
আমি এর আগে কখনোই এভাবে ভেবে দেখিনি। এখনকার দিনে আপনি বিয়ে করতে যাওয়ার মানেই হচ্ছে এক ধরনের ঝড় তুফান সৃষ্টি করে আশেপাশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়ে কিছু একটা করা। মানুষ কি বলবে অথবা মানুষ কি ভাববে এই চিন্তা করে, সমাজে মুখ রক্ষার জন্য অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেকের পরিবারের পথে বসার অবস্থা।
অন্য দিকে, মোবাইল, ফেসবুক আর চ্যাট অ্যাপ দিয়ে ছেয়ে গেছে চার পাশ। সহজেই গড়ে তোলা সম্ভব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় প্রেম কিংবা তার চেয়ে বেশি কিছুতে। তরুণ সমাজের মধ্যে বেড়ে চলেছে অস্থিরতা। রিলেশন, ব্রেক আপ, প্যাচ আপে আটকা পড়ে গেছে মস্তিস্কের বিকাশ।
আমরা মনে হয় এমন এক জেনারেশন, যারা টেকনোলজি যখন প্রভাব বিস্তার করে নাই, ঐ সময়টা উপভোগ করেছি। আবার টেকনোলজি যখন আমাদেরকে ঘিরে ধরেছে, তাও নিজের চোখের সামনেই দেখছি। তাই আমাদের অবজারভেশনটা একটু আলাদা।

শিক্ষকতার মানে

পিএইচডির জন্য আমার ক্লাসের পরিমান খুবই কম। অধিকাংশ ক্রেডিট মূলত অ্যাসাইনমেন্ট, প্রোজেক্ট আর প্রেজেন্টেশানের উপর নির্ভর করে। কোর্স গুলো যারা নেয়, তারা অধিকাংশ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। অনেক ক্লাস স্যাটালাইটে কন্ডাক্ট করা হয়। এতে করে একটা বিশাল সুবিধা হয়। যিনি যেই কোর্স পড়াচ্ছেন, তিনি সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ না শুধু, মোটামুটি ফিলোসোফার।
আমার ক্লাসের পরিমান কম হওয়ায়, প্রতি সেমিস্টারে আমার সুপারভাইজর যেই কোর্স পড়ান, ঐ ক্লাসে আমি গিয়ে বসে থাকি। উনি খুবই ব্যাসিক কিছু কোর্স পড়ান। টপিক শুনলে মনে হবে, আরে এই জিনিস তো আগে পড়ছি, আমি পারি। কিন্তু, ক্লাসে বসার পর দেখি আসলে আমি কিছুই পারি না। আর উনার ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনেক জাপানিজ স্টুডেন্ট (যাদের এই কোর্স নাই) ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে উনার লেকচার শুনে, অনেকে আবার নোট নেয়।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, যে আছে তাকে দিয়েই কোন মতে কোর্স চালিয়ে দেয়ার কালচার এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
আর কিছু শিক্ষক ভালো পড়ালেও, অধিকাংশদের অবস্থা হচ্ছে যে, উনিও জানেন না কি পড়াচ্ছেন, আর স্টুডেন্টরা তাই ক্লাসে ঘুমায়, নাইলে পত্রিকা পড়ে, আর নাইলে পিছন দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এমন কোন শিক্ষক দেখি নাই, যার ক্লাস শোনার জন্য স্টুডেন্টরা দরজার বাইরেও দাড়িয়ে থাকে।
এবার একটা গল্প না বললেই না। আমি চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায়, তৃতীয় বর্ষের স্টুডেন্টদের সাথে প্রোগ্রামিং ক্লাস করতে গিয়ে ছিলাম কিছু দিন। তখন তৃতীয় বর্ষের একজন আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলো,
"আচ্ছা, অপু ভাই কি গত বছর এই কোর্সে ফেল করছিলো নাকি? উনি দেখলাম আমাদের সাথে ক্লাস করে। উনার তো এতো খারাপ করার কথা না!"
আমাদের মাঝে ক্লাস করা মানে ঠেকায় পড়ে কিছু করা। এমনিতেও যে জানার বা শিখার জন্য পরীক্ষার বাইরে ক্লাস করা যায় বা করা উচিত, এই অনুভূতিটাই নাই।

শফিক বন্দনা

একুশে হলের ডাইনিং এ হিসাব কিতাব রাখার জন্য একজন কর্মচারী ছিল। নাম শফিক। তার অসাধারণ প্রতিভা ছিল। সে প্রায় ২০০-২৫০ জন ছাত্রের নাম, রুম নাম্বার, কার্ড নাম্বার মনে রাখতে পারতো। কার কোন বেলায় খাবার বন্ধ, কার কোন দিন থেকে খাবার চালু তা সে অনায়াসেই মনে রাখতে পারতো। কারো রুম নাম্বার পরিবর্তিত হলেও সে খুব দ্রুত আপডেট করে নিতো তার মেমোরিতে। কারণ, আমার রুম নাম্বার প্রায়ই পরিবর্তিত হতো। প্রথম তিন বছরে আমি মাত্র ১১ টা রুমে ছিলাম। রুম চেঞ্জ করার সময় শফিক দেখলেই পরের দিন গিয়ে দেখতাম যে আমার কার্ডের ইনফো সে ঠিক করে দিছে।
শফিকের উদাহারন দেয়ার একটা কারণ আছে। স্টুডেন্ট লাইফে অনেক কোর্সেই আমরা আশানুরূপ নাম্বার তুলতে পারতাম না। ক্রমাগত বছরের পর বছর নাম্বার কম পেতে পেতে এক সময় আমরা ধরে নেই যে, এই বিষয় আমার জন্য না। এটা সামনের বেঞ্চে বসা “সুশীল সমাজে”র স্টুডেন্টদের জন্য। এটা সম্পূর্ণ ভুল। মুখস্ত করে যেই নাম্বার টুকু আমাদের বন্ধুরা বেশি পেতো, তা তারা পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত ভুলে যেতো। আর প্রতিযোগিতা যদি হয় মুখস্ত করার, তাহলে শফিক ফার্স্ট হবে। বেষ্ট স্টুডেন্ট হবে।
সব ভুলে যাবার পর, পরীক্ষায় পাশ করার পর, অনেক অনেক বছর পর যা আমাদের মাথায় থাকে তাই সত্যিকারের “জ্ঞান”। বাকি সব অনর্থক। আর যারা অনর্থক (মুখস্ত ভিত্তিক বেশি নাম্বার) জিনিসের উপর ভর করে তার ক্যারিয়ার শুরু করলো, সে যেন তার বাকি জীবনটা নিজের এবং তার স্টুডেন্টদের জন্য বোঝা হয়ে কাটালো।
এই ব্যাপারে আব্বুর একটা কথা বলি। তার ভাষায়ঃ মনে কর তুমি গোসল করতেছ, আর দরজার বাইরে থেকে তোমার কোন বন্ধু বা ছোট ভাই কেউ এসে পড়ালেখা বিষয়ক কিছু একটা প্রশ্ন করলো, জানতে অথবা বুঝতে চাইলো। তুমি তাকে ঐ গোসল করা অবস্থায় তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা করতে শুরু করলা। তাহলে বুঝবা ঐ ব্যাপারে তোমার সত্যিকারের নলেজ আছে। আর তোমার উত্তর যদি হয়, গোসল করে, বই দেখে তারপর তোমাকে উত্তর দিবো। তাহলে বুঝতে হবে যে, তোমার নিজের ঐ ব্যাপারে নলেজে ঘাপলা আছে।

সায়েন্টিফিক আম্মু

আমি চলে আসার সময় আমাকে কিছু মশলা দিয়েছিলো আম্মু। প্রতিটা মশলার ক্ষেত্রে কালার ম্যাচিং করে দিয়েছিলো। যেমন, হলুদ রঙের বয়ামে হলুদের গুড়া, লাল রঙের বয়ামে শুকনা মরিচের গুড়া। আম্মুর মতে, আমি তাড়াতাড়ি কিছু করতে গেলেও বয়ামের কালারের কারনে মশলায় ভুল করবো না।
আমার কাজের জন্য ল্যাবে আমি অনেক ধরনের রেসট্রিকশন এনজাইম ব্যাবহার করি। আর প্রতিটা এনজাইমের জন্য বাফার নির্ধারিত। খেয়াল করে দেখলাম যে, রেসট্রিকশন এনজাইম এবং বাফারের ক্যাপের কালার ম্যাচিং করা। এই কালার ম্যাচিং এর জন্য কেউ চাইলেও ভুল করতে পারবে না। অনেকটা আম্মুর দেয়া মশলার বয়ামের মত।
আমি প্রতিবার রেসট্রিকশন এনজাইম নিয়ে কাজ করার সময় শুধু আম্মুর কথা মনে হয়। আর আমি ভাবি যে আমার আম্মুর ব্রেইন কতোটা সায়েন্টিফিক। অথচ তারা হায়ার স্টাডির সুযোগ পায় নাই। আমাদেরকে মানুষ করার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিলো। এই ঋণ কি কোন দিন, কোন ভাবে শোধ করা সম্ভব???

ফ্রি কফি

কনফারেন্সের প্রথম দিনঃ
সিম্পজিয়াম শেষ করার পর দেখলাম যে পোস্টারের প্রশ্ন উত্তর পর্বের সময় হয়ে গেছে। দৌড়ে দৌড়ে গেলাম। ঢুকার পথে দেখলাম যে, বিশাল এক লাইন। মেজাজ খারাপ করে লাইন না মেনেই ভিতরে ঢুকে সোজা চলে গেলাম আমার পোস্টারের কাছে। কিন্তু, প্রশ্ন করার মত কাউকে দেখতেছি না। তখন খেয়াল করলাম যে, সবাই কফি নিতে ব্যাস্ত। আর যেই বিশাল লাইনটা আমি বাইরে দেখেছি, তা ফ্রি কফির লাইন!

Friday, February 19, 2016

হাতের লেখা

যেই জিনিসটা আজকে আমার জন্য হতাশার, কালকে হয়তো ঐ জিনিসটারই অস্তিত্ব থাকবে না।
যেমন, হাতের লেখা। স্টুডেন্ট লাইফে হাতের লেখার উপর অনেক কিছু নির্ভর করত। বিজ্ঞানের বিষয় (অনেক ক্ষেত্রে তা ও) ছাড়া অন্য বিষয় গুলোতে কে কত নম্বর পাবে তা নির্ভর করত হাতের লেখার উপর। আমার হাতের লেখা খুব একটা বেশি খারাপ ছিল না। কিন্তু, আমার কিছু ফ্রেন্ড ছিল, যাদের হাতের লেখা স্যার কেন, তাদের নিজেদেরই মাঝে মাঝে পড়তে কষ্ট হত। পরীক্ষার হলে সে খাতা খুলে রাখলে ও বন্ধুরা দেখে লিখতে পারতো না। অনেক স্যাররা তাদেরকে হাতের লেখা ভালো করার জন্য প্রেম পত্র লেখার ও উপদেশ দিতো।
কিন্তু, চিন্তা করে দেখেন, আজকে সব কিছুই আমরা পিসিতে লিখি। হাতের লেখায় কিছুই যায় আসে না। তাই যেই ছেলেটা কোন একদিন আমার চেয়ে বাংলায় বেশি নম্বর পেয়ে ফার্স্ট হয়েছিলো, তার সাথে আজকে কিন্তু আমার কোন তফাৎ নাই।
এই কারণেই আমি বলি,
"রেজাল্ট অথবা সিজিপিএ ইজ টোটাল বুলশিট"

ফটোগ্রাফার

ভার্চুয়াল ডাটা থেকে কোন মেয়ের বয়ফ্রেন্ড অথবা স্বামী খুজে বের করতে না পারলেও, তার ফটোগ্রাফারকে সহজেই খুজে বের করতে পারবেন।
কারণ, প্রতি ছবির কোনায় কোনায় ঐ সব বলদ ফটোগ্রাফারের নাম আর লোগো টাঙ্গানো থাকে।
ফটোগ্রাফার বয়ফ্রেন্ড হতেও পারে, না ও হতে পারে। কিন্তু, বয়ফ্রেন্ড অবশ্যই ফটোগ্রাফার হবে।
আমার শুধু একটাই ইচ্ছা, কোন বাবা-মা তাদের পোলারে মেয়েদের ছবি তোলার জন্য এতো টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে দেয়, তাদের একটু এক নজর দেখার।

Sunday, January 31, 2016

আমার প্রিয় শিক্ষক

তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমাদের প্রোগ্রামিং ক্লাস নিতেন ফলিত পরিসংখ্যানের মাহবুব লাতিফ স্যার। সেই লোক জানতেন না উইন্ডোজ কি জিনিস। উবুন্টু চালাইতেন। প্রোজেক্টরে টার্মিনাল খুলে সব কিছু কমান্ড দিয়ে করতেন। ফোল্ডার খুলতেন কমান্ড দিয়ে, ফাইল খুলতেন কমান্ড দিয়ে। এর পরে ক্লাসের সবাই উবুন্টু ইন্সটল করা শুরু করলো। কেউ কেউ ইন্সটল দিতে গিয়ে পুরা কম্পিউটার ফরম্যাট করলো। কেউ প্রোগ্রামিং শিখবে না বলে সিধান্ত নিলো।
একদিন স্যার ক্লাসে এসে দেখে সবাই খুব খুশী। কেউ খুশীতে নাচ গান করছে। কারণ হিসেবে স্যার জানতে পারলো যে আমরা একটা মিড টার্ম পরীক্ষার সময় পিছিয়েছি। তাই সবাই খুশী। স্যার বললঃ
"দেখেন, আপনার পরীক্ষা পিছিয়ে ভালো ছাত্রদের জন্য সময় আরও বাড়িয়ে দিলেন। আপনার যারা পরীক্ষা পিছালেন, তারা এই খুশীতে পড়ালেখা করবেন না, এবং পরীক্ষা ও খারাপ দিবেন।"
স্যারের কথা সত্য ছিল ১০০%। পরীক্ষা পিছানোর নায়করা (বলা বাহুল্য আমি ও সেই দলে ছিলাম) সবাই পরীক্ষা খারাপ দিলো যথারীতি।
ঐ কোর্স শেষ হল। জীবনে মাত্র একটা থিওরি কোর্সে এ প্লাস পাইছিলাম। তা ঐ কোর্সে। (এই তথ্য না দিলে কোর্স থেকে অর্জন বুঝা যেতো না)। কিন্তু, তার পর স্যারের সাথে কাজ করা সুযোগ আসে। আমার থিসিসের বায়োইনফরমাটিক্স কাজের একটা অংশের কিছু অ্যানালাইসিস নিয়ে। জেবা ম্যাডামের অনলাইন কোর্সের কাজ করতে গিয়ে। মাঝে মাঝে স্যার ব্র্যাকে ক্লাস নিতে গেলে ওখানে গিয়ে ও স্যারকে বিরক্ত করতাম।
কেউ যখন শুনে বায়োকেমিস্ট্রিতে পড়ে আমার প্রিয় শিক্ষক লতিফ স্যার, কিছুটা অবাক হয়। সত্য কথা হল, অন্য কোন শিক্ষকের কাছ থেকে আমি এতোটা সহযোগিতা পাই নি।
ছোট বেলায় বানিয়ে বানিয়ে আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা লিখে নম্বর পেয়েছিলাম। আজকে সত্যিকারের রচনাটা স্ট্যাটাস দিলাম।

Thursday, December 31, 2015

২০১৫ঃ বইয়ের তালিকা

০১৫ তে আমি সব চেয়ে বেশি পড়ার এবং লিখার সুযোগ পেয়েছি। পড়ার তালিকায় সবার প্রথমে রিসার্চ আর্টিকেল। আর তারপরে আছে অন্যান্য বই। রিসার্চ আর্টিকেলের তালিকা শেয়ার করা নির্ঘাত বেরসিক হবে। তাই অন্যান্য বই নিয়ে কথা বলা ভালো। সর্ব মোট ৩৩টা বইয়ের সাথে সংযোগ হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই নিজের কিনা আর কিছু গিফট ছিল। এর মধ্যে ২৩ টা শেষ করেছি, আর কিছু চলছে। উল্লেখযোগ্য কিছু বইয়ের নাম লিখলাম, কেউ যদি সময় সুযোগ পান এবং আগ্রহ থাকে, তাহলে পড়ে দেখতে পারেন।
Reclaim Your Heart by Yasmin Mogahed
The Rosie Project by Graeme Simsion
The Rosie Effect by Graeme Simsion
Men Are From Mars, Women Are From Venus by John Gray 
The Book of Tea by Kakuzo Okakura 
Modern Romance by Aziz Ansari 
What I Talk When I Talk About Running by Haruki Murakami

Keep reading 

Sunday, December 27, 2015

আনস্মার্ট অতীত

ইউনিভার্সিটিতে থাকতে প্রতি ক্লাসের পর টয়লেট যাওয়া আর চিপায় গিয়ে চা খাওয়া ছিল কমন। প্রতি ক্লাসের পর কেন টয়লেটে যেতাম তা নিজেও জানতাম না, অন্যরা যাইত, তাই আমি ও দেখা দেখি যাইতাম। চা খেয়ে প্রায় ১০-১৫ মিনিট দেরি করে ক্লাসে ঢুকতাম। আর স্যার নরম হইলে আর ও দেরি হত। তারপরে ৫০ মিনিটের ক্লাসে ২০ মিনিট বাকি থাকতেই পিছন থেকে আমি শুরু করতামঃ
"স্যার, আজকে আর পারতেছি না। ছাইড়া দেন। মাথায় কিছু ঢুকতেছে না। সেই সকাল থেকে না খেয়ে ক্লাস করতেছি। আপনার দোহাই লাগে।"


দিনে আমরা এতো কাপ চা খাইতাম যে মোস্তফা ভাই হিসেব রাখতে পারতো না। আমাদের ও হিসেব থাকতো না। জিজ্ঞেস করতাম ভাই কত হইলো আমাদেরঃ
"আনুমানিক কিছু একটা দেন। আপনারা যেইটা দিবেন ঐ টাই দিনের লাভ। কত পোলাপাইন চা শেষে কাপ রাইখা আকাশের দিকে তাকাইয়া হাটা দেয়।"


আমাদের সময় ক্লাসে এসি ছিল না, ছিল না ওয়াই ফাই, ছিল না স্মার্ট ফোন। ক্লাসে বিনোদন ছিল বন্ধুদের পশ্চাৎ দেশে থাপড়ানো আর পেন ড্রাইভে উত্তেজনা ছড়ানো।

এখন ক্লাসে এসি আছে, আছে ওয়াই ফাই, সবার হাতেই স্মার্ট ফোন। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করে। কেউ ক্লাস ছেড়ে বের হয় না। এটাই স্বর্গ।

অনলাইনে মানুষের কাণ্ড কারখানা দেখে মনে হয়,
মগজ মাথা থেকে নামতে নামতে দুই রানের চিপায় চলে গেছে।


আনস্মার্ট এবং এসি, ওয়াইফাই থেকে বঞ্চিত থাকাটাই ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদ।

চাঁদাবাজ

পেশাগত কারণে আব্বুকে নিয়ম মাফিক চাঁদাবাজরা ফোন করে হুমকি দিত। তবে এরা বিভিন্ন ছদ্দ নাম ব্যাবহার করতো। তো একবার রাতে ফোন আসলো।
চাঁদাবাজঃ স্যার, কাম কাজ তো ঠিকই চালাইতেসেন, কিন্তু আমগো দিকে নজর দিয়েন।
আব্বুঃ কিভাবে নজর দিবো?
চাঁদাবাজঃ আমাগো চা পানি খাওনের পয়সা দিলেই হইবো।
আব্বুঃ নাম না জানলে, কার কাছে পয়সা কড়ি দিবো?
চাঁদাবাজঃ আমার নাম "ছোলা আনোয়ার"!
আব্বুঃ আমি তো আরেক জনরে একই নামে চিনি। তো তোমার কোন দিক দিয়ে ছোলা, উপর দিয়ে না নিচে দিয়ে? নিচে দিয়ে ছোলা হইলে তো তোমারে খুঁজে পাইতে কষ্ট হইবো!

Tuesday, December 22, 2015

আব্বুর গালাগালি

আমার আব্বু পেশায় পুর প্রকৌশলী হবার কারনে তার কাজকর্ম সব ঠিকাদার কেন্দ্রিক। তাদের সাথেই সারা দিন চিল্লা পাল্লা করে দিন কাটে। মাঝে মাঝে বাসায় এসে ও ফোনে তার কাজকর্ম চালাইত। সোজা কথায় সাধু এবং চলিত ভাষায় গালাগালি চলতো।

আম্মু মাঝে মাঝে ক্ষেপে গিয়ে বলতোঃ
"তুমি যদি এই ভাবে বাচ্চাদের সামনে গালাগালি করতে থাকো, ওরা তো এই গুলা শিখবে।"

আব্বুর উত্তরটা ছিল অনেকটা এমনঃ
"গালাগালি আজ হোক, কাল হোক, এমনিতেই শিখবে। আর শিখবে যেহেতু, বাপের কাছ থেকেই শিখুক!" 

Tuesday, September 1, 2015

বই

দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমি বাসায় আম্মুকে বললাম যে কিছু অরিজিনাল বই কিনতে চাই। আম্মু দাম শুনে আব্বুকে জানালো। আব্বু আমাকে ডেকে বললঃ
"আমার সারা ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফে ৪,৫০০ টাকা খরচ হয় নাই। আর তোমার একটা বই কিনতে হবে এই টাকা দিয়ে। ভালো প্রিন্টের কিছুটা কম দামের বই কিনো। তোমার আম্মুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিও।"
তখন আমি টরটরার মাইক্রোবয়োলজি বইয়ের ইন্ডিয়ান কপি কিনলাম। দিন রাত ঐ বই পড়তাম। বইয়ের পিছনের কাভারে একটা লাইন ছিলঃ
"The beautiful thing about education is that no one can take it away from you.”
― B.B. King
আমি এখনো কোন বই কিনতে গেলে আব্বুর ঐ কথা আর কাভারের পিছনের লাইনটা শুধুই মাথায় আসে। মাঝে মাঝে নীলক্ষেত থেকে বই কিনে হলে ফিরার পথে চিন্তা করলেই টপ টপ করে চোখ দিয়ে পানি পড়তো।
বেঁচে থাকলে আরও বই কিনবো, আরও বই পড়বো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও গভীরভাবে অনুভব করবো।

Friday, August 28, 2015

ছোটবেলার স্মৃতি

আমার ল্যাবের পোস্ট ডকের একটা তিন বছরের ছেলে আছে। সে আজকে প্রথম স্কুলে যাওয়া শুরু করলো। স্কুলে যাওয়া নিয়ে পিচ্চি খুবই উত্তেজিত ছিল। কিন্তু, বিপত্তি ঘটলো স্কুল থেকে ফিরার পথে। যে সব বাচ্চাদের বাসা দূরে, তারা বাসে করে বাসায় যায়। আর স্কুল বাসে বাচ্চাদের জন্য মন ভুলানো সুন্দর ছবি আঁকা। সেই বাস দেখে স্কুল থেকে ফিরার পথে সে কান্না কাটি শুরু করে দিলো। সে ও বাসে যেতে চাইলো।
ওর এই ঘটনা দেখে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেলো। এক রাতে আমি কিছুতেই ঘুমাচ্ছিলাম না আর প্রচণ্ড কান্না করছিলাম তরমুজ খাওয়ার জন্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে দেখে ছোট মামা রাত দুইটার সময় বাজারে গিয়ে দোকানিকে ঘুম থেকে তুলে তরমুজ নিয়ে আসছে। কিন্তু, তরমুজ আনার পর আম্মু যখন কাটা শুরু করলো, আমার কান্না থামার বদলে আর ও বেড়ে গেলো। কারণ কিছুই না, তরমুজ টা বেশি লাল ছিল না কেনো!
বাচ্চাদের চাওয়া খুবই সাধারন। মনে হয় চাইলেই তাদের আবদার মিটানো যাবে। কিন্তু, তাদের চাওয়ার মধ্যে এমন সূক্ষ্ম কিছু বস্তু থাকে, যা কিনা সত্যিই মিলানো কঠিন।