Tuesday, August 16, 2016

মেটাবোলিজম

ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরকে মেটাবলিজমের সম্পূর্ণ অংশ পড়িয়েছিলেন মূলত দুই জন স্যার। মামুন রশিদ এবং সাইদ স্যার। কার্বোহাইড্রেট (মামুন রশিদ স্যার), লিপিড (সাইদ স্যার) এবং নিউক্লিওটাইড (সাইদ স্যার)।
মামুন স্যার বোর্ডের মধ্যে তীর সূচক দাগ টেনে টেনে এক এক করে লিখতেন। তারপর একটা প্রশ্ন করতেন, সম্ভাব্য কি কি তার পর ঘটতে পারে এমন কয়েকটা জিনিস বলতেন অথবা আমাদের কাছ থেকে জানতে চাইতেন। তারপর কোনটা কি কারনে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর কি কারনেই বা অন্যটা লজিক্যাল তা ব্যাখ্যা করতেন। তারপর পরের স্টেপে যেতেন। সুতরাং, উনার ক্লাস মন দিয়ে শুনলে বায়োকেমিস্ট্রির কনসেপ্ট পরিষ্কার হতে বাধ্য।
অন্য দিকে সাইদ স্যার আমাদেরকে প্রচুর এনালিটিক্যাল প্রশ্ন করতেন। যার সঠিক উত্তর দিতে আমরা প্রায়ই ব্যার্থ হতাম। কিন্তু, উত্তর দেয়ার জন্য প্রচুর চিন্তা করা লাগতো। উনি সম্পূর্ণ পাথওয়ে থেকে কিছু একটা মুছে দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, এখন কি ঘটতে পারে? আমাদের মাথা খাটানো লাগতো অনেক। আর সাথে থাকতো অনেক অনেক বাড়ির কাজ। কোন একটা বিক্রিয়ার কোন একটা প্রোডাক্ট এর মলিকিউল গুলো আসলে কোথা থেকে আসতেছে, কোন স্টেপ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে- এই ধরনের বাড়ির কাজ। সত্যি কথা বলতে, অনেক সময় বিরক্ত লাগতো এমন বাড়ির কাজ। কিন্তু, বাস্তবতা হল, আজও আমি ঐ টেকনিক কাজে লাগিয়ে চমৎকার সব হাইপোথিসিস তৈরি করতে পারি।
উল্লেখ্য যে, উনাদের দুই জনের চোখেই আমি বেশ দুষ্টু ছিলাম হয়তো। কারণ, আমি ক্লাসে অনেক বেশি কথা বলতাম।

No comments:

Post a Comment