Showing posts with label মনের কথা. Show all posts
Showing posts with label মনের কথা. Show all posts

Sunday, September 9, 2018

বদলে যাওয়া জীবন

কিছু বুঝে উঠার আগেই এই বছরটা শেষের দিকে চলে আসছে। প্রায় ৩ মাসের মত সময় ল্যাবের বাইরে ছিলাম। জাপানের ভিতরে কাজে-অকাজে দৌড়াদৌড়ি, ইন্টার্নশিপে কানাডা আর পরে বাংলাদেশে ঘুরতে যাওয়া মিলিয়ে। ঘোরাঘুরির সময় অনেক হার্ড কপি কেনা হয়েছে, কিন্তু পড়ার সময় পাওয়া গেছে খুবই কম। জার্নাল পড়ার সময় দ্বারা অন্য বই পড়ার সময় কিছুটা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। যার ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে ব্লগিং সাইটে। তবে লেখালেখি থেকে উপার্জন উল্লেখযোগ্য না হলেও মানসিকভাবে অনেকটা ফলপ্রসূ ছিল। একটা বই অনুবাদ আর কিছু গেস্ট পোস্ট লেখা একদম খারাপ বলা যায় না।
অস্থিরতা অন্য সকল সময়ের রেকর্ড পার করেছে। কাছের এক প্রফেসর এবং স্কুল জীবনের খুব কাছের বন্ধুর আত্মহত্যার ব্যাপারটা হজম করা নীরবে আত্মহত্যার শামিল। এই সব বিষয় ভুলতে গেলে যেন আরও বেশি করে মনে পড়ে। আব্বুর অসুস্থতার খবরে এতোটা অস্থির লাগতো, শুধু পিছনের অনেক কথা মনে পড়তো। আমি আব্বুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর ভাবতাম, যেই মানুষটা দিনের পর দিন ৩-৪ ঘণ্টা করে ঘুমিয়ে শুধু কাজ করে যেতো, সে আজ কতোটা দুর্বল হয়ে পড়েছে মানসিক এবং শারীরিকভাবে।
সবচেয়ে বেশি ভেঙ্গে পড়েছি মনে হয় বাংলাদেশে গিয়ে। প্রায় প্রতিদিন বাসে করে ২-৩ ঘণ্টা ধরে ভার্সিটি যেতাম, আবার রাতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা ধরে বাসে করে বাসায় ফিরতাম। মাঝে কত মানুষ, বন্ধু, বান্ধবী, বড় ভাইয়া-আপু, ছোট ভাই-বোন আর স্যার-ম্যাডামদের সাথে দেখা করা হয়েছে। একমাত্র আমার শিক্ষকরা ছাড়া সবার সাথেই আমার সম্পর্ক কেমন জানি ছাড়া ছাড়া হয়ে গেছে। ফিরে আসার সময় মনে হচ্ছিলো, কি যেন হারিয়ে ফেলেছি, যা আর কখনোই ফিরে পাবো না! খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শেখার ব্যাপারটা এখনো চলছে। এতোটা ভাঙচুর চলছে যে, নিজেকে গুছিয়ে এক জায়গায় আনতে পারছি না। তবে নিজেকে অন্যদের গল্পের বিষয়বস্তু হিসেবে আবিষ্কার করাটা ছিল সবচেয়ে আশ্চর্যজনক।

Tuesday, August 16, 2016

মেটাবোলিজম

ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরকে মেটাবলিজমের সম্পূর্ণ অংশ পড়িয়েছিলেন মূলত দুই জন স্যার। মামুন রশিদ এবং সাইদ স্যার। কার্বোহাইড্রেট (মামুন রশিদ স্যার), লিপিড (সাইদ স্যার) এবং নিউক্লিওটাইড (সাইদ স্যার)।
মামুন স্যার বোর্ডের মধ্যে তীর সূচক দাগ টেনে টেনে এক এক করে লিখতেন। তারপর একটা প্রশ্ন করতেন, সম্ভাব্য কি কি তার পর ঘটতে পারে এমন কয়েকটা জিনিস বলতেন অথবা আমাদের কাছ থেকে জানতে চাইতেন। তারপর কোনটা কি কারনে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর কি কারনেই বা অন্যটা লজিক্যাল তা ব্যাখ্যা করতেন। তারপর পরের স্টেপে যেতেন। সুতরাং, উনার ক্লাস মন দিয়ে শুনলে বায়োকেমিস্ট্রির কনসেপ্ট পরিষ্কার হতে বাধ্য।
অন্য দিকে সাইদ স্যার আমাদেরকে প্রচুর এনালিটিক্যাল প্রশ্ন করতেন। যার সঠিক উত্তর দিতে আমরা প্রায়ই ব্যার্থ হতাম। কিন্তু, উত্তর দেয়ার জন্য প্রচুর চিন্তা করা লাগতো। উনি সম্পূর্ণ পাথওয়ে থেকে কিছু একটা মুছে দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, এখন কি ঘটতে পারে? আমাদের মাথা খাটানো লাগতো অনেক। আর সাথে থাকতো অনেক অনেক বাড়ির কাজ। কোন একটা বিক্রিয়ার কোন একটা প্রোডাক্ট এর মলিকিউল গুলো আসলে কোথা থেকে আসতেছে, কোন স্টেপ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে- এই ধরনের বাড়ির কাজ। সত্যি কথা বলতে, অনেক সময় বিরক্ত লাগতো এমন বাড়ির কাজ। কিন্তু, বাস্তবতা হল, আজও আমি ঐ টেকনিক কাজে লাগিয়ে চমৎকার সব হাইপোথিসিস তৈরি করতে পারি।
উল্লেখ্য যে, উনাদের দুই জনের চোখেই আমি বেশ দুষ্টু ছিলাম হয়তো। কারণ, আমি ক্লাসে অনেক বেশি কথা বলতাম।

প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা ব্যাপারটা খুবই কঠিন। এই ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানের সাথে সাথে অন্যদের অবস্থানের দিকে নজর রাখা লাগে। নিজের অবস্থানের চেয়ে অন্যদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। হয়তো বা এই কারনেই সকল ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক ব্যাপারে আমি পিছিয়ে। একটা উদাহারন দেই।
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়ানোর জন্য ডাকছিল। আমি দাড়ায় ছিলাম দূরে। এক স্যার আমাকে হাতে ধরে নিয়ে এসে দাড়া করায় দিলেন লাইনে। দৌড় দেয়া লাগবে। বাঁশির সাথে সাথে দৌড় দিলাম। প্রায় অর্ধেক পথ খুব দৌড়ে যাওয়ার পর কেন জানি মনে হল, বেশির ভাগ ছাত্রই আমার থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। আমি তখন ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্য পিছন দিকে ঘুরে তাকালাম। দেখলাম যে, আমার পিছনে আর কেউ নাই! তখন আমি সামনের দিকে না দৌড়ে উল্টা দিকে দৌড় দিলাম। কারণ, ফিতার কাছে সবার শেষে পৌঁছালে সারা জীবন সবাই এটা নিয়ে হাসাহাসি করবে। কিন্তু, পিছন দিকে ফিরে আসলে কেউ খেয়াল করবে না। কারণ, সবার চোখ থাকে ফিনিসিং লাইনের দিকে। আমি যখন উল্টা দিকে ফিরে গিয়ে মাথা নিচু করে হেটে ক্লাসের দিকে হেটে যাচ্ছিলাম, ঐ স্যার এসে আমাকে জড়ায় ধরলো।
আজও প্রতিযোগিতায় অ্যালার্জি রয়ে গেছে। প্রতিযোগিতায় জিতার চেষ্টায় আমরা মনে হয় নিজেকেই হারিয়ে ফেলি।

স্ট্যান্ড আপ থেকে উপার্জন

আজ থেকে প্রায় বছর চারেক আগে একদিন সবার সাথে হলের রুমে অনেক মজা করতেছিলাম। তখন হেলাল আমাকে বলছিল যে, তুমি স্ট্যান্ড আপ কমেডিতে ভালো করবা।
মাঝে অনেক সময় চলে গেছে। কমেডি শো দেখার নেশা থেকে এক সময় নিজেই করার চেষ্টা করলাম। তার ফলাফল স্বরূপ আজকেও একটা শো ছিল। কমেডিয়ান (জাপান, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, চায়না, বাংলাদেশ) অ্যান্ড দর্শক (কমপক্ষে ২০ দেশের হবে) - যে কোন দিক থেকেই এটাকে মারাত্মক গ্লোবাল শো বলা যায়।
শো শেষে যখন আমাকে টাকা (ইয়েন) ধরায় দিলো, আমি শুধু পকেটে ভরে হাটা দিলাম। কমেডিয়ান হিসেবে প্রথম উপার্জন! ট্রেনে ফিরে আসার পথে হেলালের ঐ দিনের কথা মনে পড়তেছিল।

মা

আজ টোকিও থেকে ফিরছিলাম। ট্রেনে আমার পাশের সীটে ছিলেন এক ভদ্র মহিলা আর তার বাচ্চা। আমি বরাবরের মতই পড়ার দিকে মনোনিবেশ করলাম। একটা বুক চ্যাপ্টার শেষ করার টার্গেট নিলাম ফিরার পথে। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম যে, পিচ্চি আমার দিকে তাকায় থাকে। এর পর পিচ্চির খাওয়ার সময় হল। সে যাই খায়, আমাকে খেতে বলে। পিচ্চির সাথে ইন্টার‍্যাকশনের কারনে ঐ ভদ্র মহিলার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ হল।
- তুমি কি করো?
- স্টুডেন্ট।
- তোমার কাজ কি মূলত? 
- পড়া এবং এক্সপেরিমেন্ট করা।
- এটা খুবই কঠিন কাজ বলে মনে করি আমি।
- তবে, আপনার কাজের চেয়ে অনেক সহজ।
- কিভাবে সহজ হল?
- আমি গত দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় খেয়াল করলাম যে, শুধু মাত্র পিচ্চিকে সামলানোর জন্য আপনাকে অনেক গুলো কাজ করা লাগছে। তাকে খাওয়ানো, সে একটু বসে থাকলে চিল্লায়, তাই তাকে নিয়ে উঠে গিয়ে হেটে আসা, তার সাথে খেলা করা ইত্যাদি। আর আমি কি করছি, শুধু বইটা খুলে কোন নড়াচড়া না করে তাকায় ছিলাম আর পড়ছি। কোনটা সহজ আপনিই বলেন।
- আমি কখন ট্রেনে কোন অপিরিচিত ফরেনারের সাথে কথা বলি নাই। তোমার এই এপ্রিসিয়েশন শুনে খুব ভালো লাগলো।
- আমি আসলে প্রায়ই ভাবি, আমার মা না জানি আমাকে বড় করার জন্য কি পরিমান কষ্ট করেছেন। আমি যেই কাজই করি না কেন, এর চেয়ে কঠিন কাজ দ্বিতীয়টা আর নেই।
- তোমার মা অনেক লাকি। যার সন্তান মাকে নিয়ে এভাবে ভাবে, সেই মা আসলেই লাকি।
- আসলে ঠিক তা না। আমি নিজেও আগে এমন ভাবতে পারি নাই। পরিবারের কাছ থেকে দূরত্ব বাড়ার পর, আমার এই সব রিয়েলাইজেশন আসছে।
বলে রাখা ভালো, জাপানের সব চেয়ে কিউট বস্তু হচ্ছে পিচ্চিরা। এর চেয়ে কিউট কোন কিছু আজ পর্যন্ত চোখে পড়ে নাই।

তোমার জন্য প্রতিযোগিতা

অনেক ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া লেগেছে এবং প্রতিনিয়ত নিয়েই যাচ্ছি। আর সকল প্রতিযোগিতায় অনেক গুলো সম্ভাবনা থাকে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অথবা স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ পদক ধরনের কিছু। অনেক পরিশ্রম করার পর সেরা পুরুস্কারটা না পেলেও খুব একটা ভয় পাওয়া বা হারানোর কিছু নেই। কারণ, সেরা পুরুস্কার ছাড়াও অনেক পুরুস্কার জেতার সুযোগ থাকে।
কিন্তু, তোমাকে পাওয়ার দৌড়ে বা প্রতিযোগিতায় একটাই পুরুস্কার। একটাই ফলাফল। এখানে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অথবা রৌপ্য, ব্রোঞ্জ বলে কিছু নেই। একটাই মাত্র পুরুস্কার। সেটা তুমি। তাই হারানোর ভয় কাজ করে।
পারিপার্শ্বিক সব কিছু মিলিয়ে, জীবনে "দুশ্চিন্তা" ব্যাপারটা প্রেজেন্ট কন্টিনিয়াজ টেন্স হয়ে দাড়িয়েছে।

Saturday, April 30, 2016

আধুনিক সমাজে বিয়ে

"আধুনিক সমাজ ব্যাবস্থা আমাদের জন্য বিয়ে করা করেছে কঠিন, কিন্ত প্রেম ভালোবাসা এবং এক্সট্রা মেরিটাল রিলেশনকে করেছে সহজ লভ্য।"
-জনৈক বড় ভাইয়া
আমি এর আগে কখনোই এভাবে ভেবে দেখিনি। এখনকার দিনে আপনি বিয়ে করতে যাওয়ার মানেই হচ্ছে এক ধরনের ঝড় তুফান সৃষ্টি করে আশেপাশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়ে কিছু একটা করা। মানুষ কি বলবে অথবা মানুষ কি ভাববে এই চিন্তা করে, সমাজে মুখ রক্ষার জন্য অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেকের পরিবারের পথে বসার অবস্থা।
অন্য দিকে, মোবাইল, ফেসবুক আর চ্যাট অ্যাপ দিয়ে ছেয়ে গেছে চার পাশ। সহজেই গড়ে তোলা সম্ভব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় প্রেম কিংবা তার চেয়ে বেশি কিছুতে। তরুণ সমাজের মধ্যে বেড়ে চলেছে অস্থিরতা। রিলেশন, ব্রেক আপ, প্যাচ আপে আটকা পড়ে গেছে মস্তিস্কের বিকাশ।
আমরা মনে হয় এমন এক জেনারেশন, যারা টেকনোলজি যখন প্রভাব বিস্তার করে নাই, ঐ সময়টা উপভোগ করেছি। আবার টেকনোলজি যখন আমাদেরকে ঘিরে ধরেছে, তাও নিজের চোখের সামনেই দেখছি। তাই আমাদের অবজারভেশনটা একটু আলাদা।

শিক্ষকতার মানে

পিএইচডির জন্য আমার ক্লাসের পরিমান খুবই কম। অধিকাংশ ক্রেডিট মূলত অ্যাসাইনমেন্ট, প্রোজেক্ট আর প্রেজেন্টেশানের উপর নির্ভর করে। কোর্স গুলো যারা নেয়, তারা অধিকাংশ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। অনেক ক্লাস স্যাটালাইটে কন্ডাক্ট করা হয়। এতে করে একটা বিশাল সুবিধা হয়। যিনি যেই কোর্স পড়াচ্ছেন, তিনি সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ না শুধু, মোটামুটি ফিলোসোফার।
আমার ক্লাসের পরিমান কম হওয়ায়, প্রতি সেমিস্টারে আমার সুপারভাইজর যেই কোর্স পড়ান, ঐ ক্লাসে আমি গিয়ে বসে থাকি। উনি খুবই ব্যাসিক কিছু কোর্স পড়ান। টপিক শুনলে মনে হবে, আরে এই জিনিস তো আগে পড়ছি, আমি পারি। কিন্তু, ক্লাসে বসার পর দেখি আসলে আমি কিছুই পারি না। আর উনার ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনেক জাপানিজ স্টুডেন্ট (যাদের এই কোর্স নাই) ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে উনার লেকচার শুনে, অনেকে আবার নোট নেয়।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, যে আছে তাকে দিয়েই কোন মতে কোর্স চালিয়ে দেয়ার কালচার এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
আর কিছু শিক্ষক ভালো পড়ালেও, অধিকাংশদের অবস্থা হচ্ছে যে, উনিও জানেন না কি পড়াচ্ছেন, আর স্টুডেন্টরা তাই ক্লাসে ঘুমায়, নাইলে পত্রিকা পড়ে, আর নাইলে পিছন দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এমন কোন শিক্ষক দেখি নাই, যার ক্লাস শোনার জন্য স্টুডেন্টরা দরজার বাইরেও দাড়িয়ে থাকে।
এবার একটা গল্প না বললেই না। আমি চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায়, তৃতীয় বর্ষের স্টুডেন্টদের সাথে প্রোগ্রামিং ক্লাস করতে গিয়ে ছিলাম কিছু দিন। তখন তৃতীয় বর্ষের একজন আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলো,
"আচ্ছা, অপু ভাই কি গত বছর এই কোর্সে ফেল করছিলো নাকি? উনি দেখলাম আমাদের সাথে ক্লাস করে। উনার তো এতো খারাপ করার কথা না!"
আমাদের মাঝে ক্লাস করা মানে ঠেকায় পড়ে কিছু করা। এমনিতেও যে জানার বা শিখার জন্য পরীক্ষার বাইরে ক্লাস করা যায় বা করা উচিত, এই অনুভূতিটাই নাই।

শফিক বন্দনা

একুশে হলের ডাইনিং এ হিসাব কিতাব রাখার জন্য একজন কর্মচারী ছিল। নাম শফিক। তার অসাধারণ প্রতিভা ছিল। সে প্রায় ২০০-২৫০ জন ছাত্রের নাম, রুম নাম্বার, কার্ড নাম্বার মনে রাখতে পারতো। কার কোন বেলায় খাবার বন্ধ, কার কোন দিন থেকে খাবার চালু তা সে অনায়াসেই মনে রাখতে পারতো। কারো রুম নাম্বার পরিবর্তিত হলেও সে খুব দ্রুত আপডেট করে নিতো তার মেমোরিতে। কারণ, আমার রুম নাম্বার প্রায়ই পরিবর্তিত হতো। প্রথম তিন বছরে আমি মাত্র ১১ টা রুমে ছিলাম। রুম চেঞ্জ করার সময় শফিক দেখলেই পরের দিন গিয়ে দেখতাম যে আমার কার্ডের ইনফো সে ঠিক করে দিছে।
শফিকের উদাহারন দেয়ার একটা কারণ আছে। স্টুডেন্ট লাইফে অনেক কোর্সেই আমরা আশানুরূপ নাম্বার তুলতে পারতাম না। ক্রমাগত বছরের পর বছর নাম্বার কম পেতে পেতে এক সময় আমরা ধরে নেই যে, এই বিষয় আমার জন্য না। এটা সামনের বেঞ্চে বসা “সুশীল সমাজে”র স্টুডেন্টদের জন্য। এটা সম্পূর্ণ ভুল। মুখস্ত করে যেই নাম্বার টুকু আমাদের বন্ধুরা বেশি পেতো, তা তারা পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত ভুলে যেতো। আর প্রতিযোগিতা যদি হয় মুখস্ত করার, তাহলে শফিক ফার্স্ট হবে। বেষ্ট স্টুডেন্ট হবে।
সব ভুলে যাবার পর, পরীক্ষায় পাশ করার পর, অনেক অনেক বছর পর যা আমাদের মাথায় থাকে তাই সত্যিকারের “জ্ঞান”। বাকি সব অনর্থক। আর যারা অনর্থক (মুখস্ত ভিত্তিক বেশি নাম্বার) জিনিসের উপর ভর করে তার ক্যারিয়ার শুরু করলো, সে যেন তার বাকি জীবনটা নিজের এবং তার স্টুডেন্টদের জন্য বোঝা হয়ে কাটালো।
এই ব্যাপারে আব্বুর একটা কথা বলি। তার ভাষায়ঃ মনে কর তুমি গোসল করতেছ, আর দরজার বাইরে থেকে তোমার কোন বন্ধু বা ছোট ভাই কেউ এসে পড়ালেখা বিষয়ক কিছু একটা প্রশ্ন করলো, জানতে অথবা বুঝতে চাইলো। তুমি তাকে ঐ গোসল করা অবস্থায় তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা করতে শুরু করলা। তাহলে বুঝবা ঐ ব্যাপারে তোমার সত্যিকারের নলেজ আছে। আর তোমার উত্তর যদি হয়, গোসল করে, বই দেখে তারপর তোমাকে উত্তর দিবো। তাহলে বুঝতে হবে যে, তোমার নিজের ঐ ব্যাপারে নলেজে ঘাপলা আছে।

সায়েন্টিফিক আম্মু

আমি চলে আসার সময় আমাকে কিছু মশলা দিয়েছিলো আম্মু। প্রতিটা মশলার ক্ষেত্রে কালার ম্যাচিং করে দিয়েছিলো। যেমন, হলুদ রঙের বয়ামে হলুদের গুড়া, লাল রঙের বয়ামে শুকনা মরিচের গুড়া। আম্মুর মতে, আমি তাড়াতাড়ি কিছু করতে গেলেও বয়ামের কালারের কারনে মশলায় ভুল করবো না।
আমার কাজের জন্য ল্যাবে আমি অনেক ধরনের রেসট্রিকশন এনজাইম ব্যাবহার করি। আর প্রতিটা এনজাইমের জন্য বাফার নির্ধারিত। খেয়াল করে দেখলাম যে, রেসট্রিকশন এনজাইম এবং বাফারের ক্যাপের কালার ম্যাচিং করা। এই কালার ম্যাচিং এর জন্য কেউ চাইলেও ভুল করতে পারবে না। অনেকটা আম্মুর দেয়া মশলার বয়ামের মত।
আমি প্রতিবার রেসট্রিকশন এনজাইম নিয়ে কাজ করার সময় শুধু আম্মুর কথা মনে হয়। আর আমি ভাবি যে আমার আম্মুর ব্রেইন কতোটা সায়েন্টিফিক। অথচ তারা হায়ার স্টাডির সুযোগ পায় নাই। আমাদেরকে মানুষ করার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছিলো। এই ঋণ কি কোন দিন, কোন ভাবে শোধ করা সম্ভব???

Friday, February 19, 2016

হাতের লেখা

যেই জিনিসটা আজকে আমার জন্য হতাশার, কালকে হয়তো ঐ জিনিসটারই অস্তিত্ব থাকবে না।
যেমন, হাতের লেখা। স্টুডেন্ট লাইফে হাতের লেখার উপর অনেক কিছু নির্ভর করত। বিজ্ঞানের বিষয় (অনেক ক্ষেত্রে তা ও) ছাড়া অন্য বিষয় গুলোতে কে কত নম্বর পাবে তা নির্ভর করত হাতের লেখার উপর। আমার হাতের লেখা খুব একটা বেশি খারাপ ছিল না। কিন্তু, আমার কিছু ফ্রেন্ড ছিল, যাদের হাতের লেখা স্যার কেন, তাদের নিজেদেরই মাঝে মাঝে পড়তে কষ্ট হত। পরীক্ষার হলে সে খাতা খুলে রাখলে ও বন্ধুরা দেখে লিখতে পারতো না। অনেক স্যাররা তাদেরকে হাতের লেখা ভালো করার জন্য প্রেম পত্র লেখার ও উপদেশ দিতো।
কিন্তু, চিন্তা করে দেখেন, আজকে সব কিছুই আমরা পিসিতে লিখি। হাতের লেখায় কিছুই যায় আসে না। তাই যেই ছেলেটা কোন একদিন আমার চেয়ে বাংলায় বেশি নম্বর পেয়ে ফার্স্ট হয়েছিলো, তার সাথে আজকে কিন্তু আমার কোন তফাৎ নাই।
এই কারণেই আমি বলি,
"রেজাল্ট অথবা সিজিপিএ ইজ টোটাল বুলশিট"

ফটোগ্রাফার

ভার্চুয়াল ডাটা থেকে কোন মেয়ের বয়ফ্রেন্ড অথবা স্বামী খুজে বের করতে না পারলেও, তার ফটোগ্রাফারকে সহজেই খুজে বের করতে পারবেন।
কারণ, প্রতি ছবির কোনায় কোনায় ঐ সব বলদ ফটোগ্রাফারের নাম আর লোগো টাঙ্গানো থাকে।
ফটোগ্রাফার বয়ফ্রেন্ড হতেও পারে, না ও হতে পারে। কিন্তু, বয়ফ্রেন্ড অবশ্যই ফটোগ্রাফার হবে।
আমার শুধু একটাই ইচ্ছা, কোন বাবা-মা তাদের পোলারে মেয়েদের ছবি তোলার জন্য এতো টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে দেয়, তাদের একটু এক নজর দেখার।

Sunday, December 27, 2015

আনস্মার্ট অতীত

ইউনিভার্সিটিতে থাকতে প্রতি ক্লাসের পর টয়লেট যাওয়া আর চিপায় গিয়ে চা খাওয়া ছিল কমন। প্রতি ক্লাসের পর কেন টয়লেটে যেতাম তা নিজেও জানতাম না, অন্যরা যাইত, তাই আমি ও দেখা দেখি যাইতাম। চা খেয়ে প্রায় ১০-১৫ মিনিট দেরি করে ক্লাসে ঢুকতাম। আর স্যার নরম হইলে আর ও দেরি হত। তারপরে ৫০ মিনিটের ক্লাসে ২০ মিনিট বাকি থাকতেই পিছন থেকে আমি শুরু করতামঃ
"স্যার, আজকে আর পারতেছি না। ছাইড়া দেন। মাথায় কিছু ঢুকতেছে না। সেই সকাল থেকে না খেয়ে ক্লাস করতেছি। আপনার দোহাই লাগে।"


দিনে আমরা এতো কাপ চা খাইতাম যে মোস্তফা ভাই হিসেব রাখতে পারতো না। আমাদের ও হিসেব থাকতো না। জিজ্ঞেস করতাম ভাই কত হইলো আমাদেরঃ
"আনুমানিক কিছু একটা দেন। আপনারা যেইটা দিবেন ঐ টাই দিনের লাভ। কত পোলাপাইন চা শেষে কাপ রাইখা আকাশের দিকে তাকাইয়া হাটা দেয়।"


আমাদের সময় ক্লাসে এসি ছিল না, ছিল না ওয়াই ফাই, ছিল না স্মার্ট ফোন। ক্লাসে বিনোদন ছিল বন্ধুদের পশ্চাৎ দেশে থাপড়ানো আর পেন ড্রাইভে উত্তেজনা ছড়ানো।

এখন ক্লাসে এসি আছে, আছে ওয়াই ফাই, সবার হাতেই স্মার্ট ফোন। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করে। কেউ ক্লাস ছেড়ে বের হয় না। এটাই স্বর্গ।

অনলাইনে মানুষের কাণ্ড কারখানা দেখে মনে হয়,
মগজ মাথা থেকে নামতে নামতে দুই রানের চিপায় চলে গেছে।


আনস্মার্ট এবং এসি, ওয়াইফাই থেকে বঞ্চিত থাকাটাই ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদ।

Friday, August 28, 2015

সাদৃশ্য

নিন্মবিত্ত পরিবারের ছেলেরা মধ্য প্রাচ্য থেকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দেশে ফিরে গেলে শার্টের বোতাম থাকে খোলা আর হাতা থাকে গোটানো। কারণ, খুবই নরমাল। শার্টের বোতাম খোলা থাকলে গলার স্বর্ণের চেইন আর হাতা গোটানো থাকলে হাতের ঘড়ি দেখানো যায় সবাইকে।
অন্য দিকে, মধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলেরা উচ্চশিক্ষার নামে পশ্চিমা দেশে ঘুরে নিজের দেশে গেলে কথায় কথায় নিজের গেজেট বের করে। কারনে অকারনে সবার সামনে গেজেট বের করে অন্যদের দেখানোর প্রবণতা।
নিন্মবিত্ত পরিবারের ছেলেরা দেশে ফিরে গিয়ে “আমি কি হয়ে গেলাম” ভাব নিয়ে এলাকার সব সুন্দরী মেয়েদের প্রস্তাব দিতে থাকে। তাদের ধারনা, দুনিয়ার সবাই এখন তাদের কাছে মেয়ে তুলে দিতে রাজি আছি তাদের কাঁচা টাকা দেখে।
অন্য দিকে, মধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলেরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা বিভাগে গিয়ে “আমি কি উল্টায় আসছি সেই দেশে” ভাব নিয়ে এক এর পর এক মেয়েদের প্রস্তাব দিতে থাকে। তাদের ধারনা সব মেয়েরা তাদের ডিগ্রি দেখে খাবি খাবে।
এই দুইটা শ্রেণীর মাঝে আমি কোন পার্থক্য দেখি না। বরং এই সব আচরণ দেখেই বুঝা যায় আপনি কোন ধরনের পরিবার থেকে আসছেন। টাকার বিচারে আপনি সমাজের গতানুগতিক নিন্ম অথবা মধ্যবিত্ত পরিবারের হতে পারেন। কিন্তু, মনের দিক থেকে উচ্চবিত্ত হতে কিছুই লাগে না।
উল্লেখ্য যে আমি উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেদের নিয়ে কিছু বলি নাই। কারণ, তাদের মাঝে এই সব স্বভাব নাই। তাদের জীবনে সব সময় সব কিছু থাকে বলে মানুষকে দেখানোর প্রবণতা থাকে না বললেই চলে।

প্রবাসের ঈদ

১.
ঈদের আগে আগে হাতে আমাদের কেনাকাটার জন্য টাকা থাকুক বা না থাকুক, শপিং মলে ঘুরা বন্ধ থাকতো না। কেউ একটা প্যান্ট কিনবে শুনলে সাথে আর ও পাঁচ জন যেতাম। অনেক সময় যে কিনতে যেতো তারই কিছু কেনা হত না। জানি না বসুন্ধরার সেই কফি শপের দোকানি আমাদের মনে করে কিনা। এমন রেগুলার খদ্দের পাওয়া মুশকিল।
২.
প্রতি ঈদের আগে ভাবতাম যে এই বার ঈদ হলে করবো আর পড়ালেখা করে উল্টায় ফেলব। হলের অফিসে গিয়ে নাম লিখায় আসতাম যে এই বার আমরা থাকতেছি হলে। কিন্তু, ঠিক আগের দিন বাসায় চলে যেতাম। আর বাসায় গিয়ে বলতাম যে, আমাদের ফার্স্ট গার্ল ঈদে কোথাও যায় না, এই কারনেই ও ফার্স্ট। আর আমার বাসায় আসা লাগে, আমি কিভাবে ওর সাথে কম্পিটিশন করবো। আব্বু বলতো, সারা বছর কিছু করতে পারে না, ঈদে পইড়া ফার্স্ট হইয়া যাবে!
৩.
আমার এলাকা টঙ্গীতে আমার বন্ধুর সংখ্যা সীমিত। অল্প কয়েক জন। কিন্তু, খুবই মাখামাখি সম্পর্ক। ঈদের নামাজ পড়েই ওদের বাসায় গিয়ে হামলা করতাম। আর কেউ মিস করুক বা না করুক, তোরা আমাকে মিস করবি। কারণ, আমার ঈদের কোন জামা থাকতো না আলাদা, পুরাতন টি-শার্ট পড়ে ওদের সাথে ঘুরতাম। তোরা আজকে আমাকে পচাইতে পারবি না চিন্তা করেই আমার খারাপ লাগতেসে।
৪.
ঈদের পর কলেজের বন্ধুদের সাথে উত্তরায় একত্রিত হওয়া। আর আমাদের সকলের মধ্যে বন্ধুত্ব গভীর হয়েছিলো কলেজ পালাতে গিয়ে ধরা খাওয়ার পর। যদিও ভাগ্য গুনে শেষ পর্যন্ত কলেজ থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয় নাই। গেট টু গেদারে সবার এক বছরের জমিয়ে রাখা সব মজার গল্প গুলো শুনার সুযোগ হবে না।
৫.
কিন্তু, এই সব কিছুর চেয়ে ও যেই জিনিসটা বেশি মিস করবো; আব্বুর সাথে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া। নামাজ শেষে অনেকের সাথে আব্বুর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া। মুরব্বীদের কঠিন কঠিন "ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা" নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বাসায় তেমন কোন মেহমান না আসার কারনে আম্মুর রান্না করা সেমাই, নুডুলস আর চটপটি সারা দিন খেয়ে শেষ করে পাতিল ক্লিয়ার করার প্রোজেক্ট। লিজা আপুর সাথে ঈদের নাটক দেখা। বাসার পিচ্চি গুলোর সাথে গেঞ্জাম করা।
আমি জানি না, কে আমাকে কতো টুকু মিস করে অথবা করবে। তাই মাঝে মাঝে এটা ভেবেই সুখী থাকি যে, আমাদের হলের ঝাড়ুদার কাম রিস্কা চালক শাহিন মামা আমাকে মিস করবেই। সে আমাকে চাইলে ও ভুলতে পারবে না।

Tuesday, October 7, 2014

ভাষা শিক্ষা

জন্ম সূত্রে বাংলা ভাষা শিক্ষার হাতেখড়ি
পড়ালেখার খাতিরে ইংলিশের যাত্রা শুরু করি
ধর্মীয় কাজে আরবি পড়তে শিখি
বিদেশে আসার কারণে জাপানিজ চেষ্টা করছি
বাংলা এবং ইংলিশ লেখতে হয় বাম থেকে ডানে,
আরবি লিখে হয় ডান থেকে বামে,
আর জাপানিজ পত্রিকা লেখা হয় উপর থেকে নিচে।
আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহ রহম না করলে এক জীবনে তিন দিক থেকে পড়া যায়, এমন কয়েকটা ভাষা শিক্ষা সম্ভব না!
Like

সতর্ক বার্তা

আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য ভালো লাগার বিষয়গুলোও খুব সাধারণ। দেশ ছেড়ে আসার পর আজকে প্রথম জামাতে নামাজ পড়লাম। এটাই অনেক ভালো লাগার বিষয়। মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ দূরেই। সাইকেল থাকলে খুব একটা দূরে না, কিন্তু আমার মতো হেটে গেলে দূরে। ভাইয়ারা সাইকেলে গেছেন আর আমি তাদের সাথে দ্রুত হেটে হেটে মসজিদে পৌঁছলাম। বেশ কিছু অন্য দেশের মুসলমানদের সাথে কথা হল, পরিচয় হল। সব চেয়ে যেই ব্যাপারটা বেশি নাড়া দিয়েছিল, তা হল ফোন বন্ধ রাখার জন্য লেখা সুন্দর একটা বার্তা।
"No call is more imporatnt than the call from Allah"
যে এই বার্তা একবার দেখবে এবং অনুভব করবে, এর পর থেকে সে কখনো ফোন খোলা রেখে তো দাঁড়াবেই না, সাথে নামাজের সময় হলেই দৌড়ে যাবে সকল কাজ ফেলে।

ছেড়া জুতা

মসজিদে ব্যাবহারের জন্য যেই স্যান্ডেল গুলো সরবরাহ করা হয় সেই গুলো চারপাশ দিয়ে ইচ্ছা করে কেটে দেয়া হয়, এর ফলে স্যান্ডেল গুলো দিয়ে কাজ চালানো যায় কিন্তু দেখতে বেশ বিশ্রী লাগে। আর কেটে দেয়ার কারণ হল, মসজিদের জুতা চোরদের দৃষ্টি থেকে যেন জুতা জোড়ারা রক্ষা পায়।
আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া মানুষগুলো হয়তো অনেক দিক থেকেই পরিপূর্ণ কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ না, তাতে ক্ষতি কি! তারা পরিপূর্ণ কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে, খারাপ লোকের কুদৃষ্টি তাদেরকে আমাদের জীবন থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। তাদের অপরিপূর্ণতাই তাদেরকে সারা জীবন আমাদের পাশে থেকে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে ঠিক ঐ কেটে-ছেটে রাখা মসজিদের জুতার মতন।

ছড়া

ভাল্লাগে না ছাড়তে তোমায়
তবুও যাবো ছেড়ে
মনটা আমার বাচ্চা কিন্তু
বয়স যাচ্ছে বেড়ে
এমন করেই জীবন যুদ্ধে
যাচ্ছি শুধুই হেরে
দিবে বলে জীবন শুধু
নিলো সবই কেড়ে
চাইছি আমি যুদ্ধ করতে
উঠছি না তো পেরে
টানাটানির এই জীবনে
যাচ্ছে সবই ছিড়ে
যাচ্ছে ছিঁড়ে সম্পর্ক
ব্যাস্ততারই ভিড়ে
দিন শেষে ফিরবো সবাই
"কবর" নামের নীড়ে

Tuesday, August 12, 2014

কোটা প্প্রোফাইলিং

কোটা থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ১০ হাজারের পিছনের সিরিয়াল থেকে এসে উপরের দিকে সাবজেক্ট পাওয়া যায়, বিসিএস পরীক্ষায় অন্যদের চেয়ে অনেক কম উত্তর করেও উতরে যাওয়া যায়। আর এই কোটা ব্যাবস্থা ছেলে-মেয়েকে ছাড়িয়ে নাতি-নাতনির পর্যায়ে চলে আসছে। সামনের দিন গুলোতে পড়ালেখার চেয়ে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার বংশধর বলে প্রমাণ করাই হবে একমাত্র সাধনা। আর বংশগতির এই সিঁড়ি ধরে কোটা চলতে থাকলে এখনই মুক্তিযোদ্ধাদের DNA profiling করে রাখা উচিত। কারণ, পরবতীতে পরীক্ষার্থীদের DNA typing করে নিয়োগ দেয়া লাগবে। এখন যেমন ফরেনসিক ল্যাবে আসামী খোঁজা, বাবা-মা নির্ধারণ, লাশ সনাক্ত করার জন্য নমুনা আসে, তখন পরীক্ষার্থী আসলেই কোন মুক্তিযোদ্ধার বংশধর কিনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা আসবে। শরীফ স্যার আগে ভাগেই প্রস্তুত থাকা উচিত।