একুশে হলের ডাইনিং এ হিসাব কিতাব রাখার জন্য একজন কর্মচারী ছিল। নাম শফিক। তার অসাধারণ প্রতিভা ছিল। সে প্রায় ২০০-২৫০ জন ছাত্রের নাম, রুম নাম্বার, কার্ড নাম্বার মনে রাখতে পারতো। কার কোন বেলায় খাবার বন্ধ, কার কোন দিন থেকে খাবার চালু তা সে অনায়াসেই মনে রাখতে পারতো। কারো রুম নাম্বার পরিবর্তিত হলেও সে খুব দ্রুত আপডেট করে নিতো তার মেমোরিতে। কারণ, আমার রুম নাম্বার প্রায়ই পরিবর্তিত হতো। প্রথম তিন বছরে আমি মাত্র ১১ টা রুমে ছিলাম। রুম চেঞ্জ করার সময় শফিক দেখলেই পরের দিন গিয়ে দেখতাম যে আমার কার্ডের ইনফো সে ঠিক করে দিছে।
শফিকের উদাহারন দেয়ার একটা কারণ আছে। স্টুডেন্ট লাইফে অনেক কোর্সেই আমরা আশানুরূপ নাম্বার তুলতে পারতাম না। ক্রমাগত বছরের পর বছর নাম্বার কম পেতে পেতে এক সময় আমরা ধরে নেই যে, এই বিষয় আমার জন্য না। এটা সামনের বেঞ্চে বসা “সুশীল সমাজে”র স্টুডেন্টদের জন্য। এটা সম্পূর্ণ ভুল। মুখস্ত করে যেই নাম্বার টুকু আমাদের বন্ধুরা বেশি পেতো, তা তারা পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত ভুলে যেতো। আর প্রতিযোগিতা যদি হয় মুখস্ত করার, তাহলে শফিক ফার্স্ট হবে। বেষ্ট স্টুডেন্ট হবে।
সব ভুলে যাবার পর, পরীক্ষায় পাশ করার পর, অনেক অনেক বছর পর যা আমাদের মাথায় থাকে তাই সত্যিকারের “জ্ঞান”। বাকি সব অনর্থক। আর যারা অনর্থক (মুখস্ত ভিত্তিক বেশি নাম্বার) জিনিসের উপর ভর করে তার ক্যারিয়ার শুরু করলো, সে যেন তার বাকি জীবনটা নিজের এবং তার স্টুডেন্টদের জন্য বোঝা হয়ে কাটালো।
এই ব্যাপারে আব্বুর একটা কথা বলি। তার ভাষায়ঃ মনে কর তুমি গোসল করতেছ, আর দরজার বাইরে থেকে তোমার কোন বন্ধু বা ছোট ভাই কেউ এসে পড়ালেখা বিষয়ক কিছু একটা প্রশ্ন করলো, জানতে অথবা বুঝতে চাইলো। তুমি তাকে ঐ গোসল করা অবস্থায় তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা করতে শুরু করলা। তাহলে বুঝবা ঐ ব্যাপারে তোমার সত্যিকারের নলেজ আছে। আর তোমার উত্তর যদি হয়, গোসল করে, বই দেখে তারপর তোমাকে উত্তর দিবো। তাহলে বুঝতে হবে যে, তোমার নিজের ঐ ব্যাপারে নলেজে ঘাপলা আছে।
No comments:
Post a Comment