Sunday, September 9, 2018

বদলে যাওয়া জীবন

কিছু বুঝে উঠার আগেই এই বছরটা শেষের দিকে চলে আসছে। প্রায় ৩ মাসের মত সময় ল্যাবের বাইরে ছিলাম। জাপানের ভিতরে কাজে-অকাজে দৌড়াদৌড়ি, ইন্টার্নশিপে কানাডা আর পরে বাংলাদেশে ঘুরতে যাওয়া মিলিয়ে। ঘোরাঘুরির সময় অনেক হার্ড কপি কেনা হয়েছে, কিন্তু পড়ার সময় পাওয়া গেছে খুবই কম। জার্নাল পড়ার সময় দ্বারা অন্য বই পড়ার সময় কিছুটা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। যার ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে ব্লগিং সাইটে। তবে লেখালেখি থেকে উপার্জন উল্লেখযোগ্য না হলেও মানসিকভাবে অনেকটা ফলপ্রসূ ছিল। একটা বই অনুবাদ আর কিছু গেস্ট পোস্ট লেখা একদম খারাপ বলা যায় না।
অস্থিরতা অন্য সকল সময়ের রেকর্ড পার করেছে। কাছের এক প্রফেসর এবং স্কুল জীবনের খুব কাছের বন্ধুর আত্মহত্যার ব্যাপারটা হজম করা নীরবে আত্মহত্যার শামিল। এই সব বিষয় ভুলতে গেলে যেন আরও বেশি করে মনে পড়ে। আব্বুর অসুস্থতার খবরে এতোটা অস্থির লাগতো, শুধু পিছনের অনেক কথা মনে পড়তো। আমি আব্বুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর ভাবতাম, যেই মানুষটা দিনের পর দিন ৩-৪ ঘণ্টা করে ঘুমিয়ে শুধু কাজ করে যেতো, সে আজ কতোটা দুর্বল হয়ে পড়েছে মানসিক এবং শারীরিকভাবে।
সবচেয়ে বেশি ভেঙ্গে পড়েছি মনে হয় বাংলাদেশে গিয়ে। প্রায় প্রতিদিন বাসে করে ২-৩ ঘণ্টা ধরে ভার্সিটি যেতাম, আবার রাতে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা ধরে বাসে করে বাসায় ফিরতাম। মাঝে কত মানুষ, বন্ধু, বান্ধবী, বড় ভাইয়া-আপু, ছোট ভাই-বোন আর স্যার-ম্যাডামদের সাথে দেখা করা হয়েছে। একমাত্র আমার শিক্ষকরা ছাড়া সবার সাথেই আমার সম্পর্ক কেমন জানি ছাড়া ছাড়া হয়ে গেছে। ফিরে আসার সময় মনে হচ্ছিলো, কি যেন হারিয়ে ফেলেছি, যা আর কখনোই ফিরে পাবো না! খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শেখার ব্যাপারটা এখনো চলছে। এতোটা ভাঙচুর চলছে যে, নিজেকে গুছিয়ে এক জায়গায় আনতে পারছি না। তবে নিজেকে অন্যদের গল্পের বিষয়বস্তু হিসেবে আবিষ্কার করাটা ছিল সবচেয়ে আশ্চর্যজনক।

No comments:

Post a Comment