Sunday, September 9, 2018

অর্থনৈতিক অবস্থা

ভার্সিটিতে একটা ক্লাসের সব ছাত্র-ছাত্রীর অর্থনৈতিক অবস্থা এক রকম থাকে না। কেউ সকাল বেলা গাড়িতে করে এসে নামে, দিন শেষে গাড়িতে উঠে চলে যায়। অনেকের পরিবার সচ্ছল। হলে থাকুক অথবা বাসায় থাকুক, বাবা মায়ের কাছ থেকে টাকা পায়। কেউ আবার স্টুডেন্ট পড়ায় চলে। এই কারনেই কারো জন্য প্রতিদিন এখানে সেখানে খেতে গিয়ে চেক ইন দেয়া, কয়দিন পর পর ট্যুরে যাওয়া কোন ব্যাপার না। কিন্তু, অনেকের জন্যই এক দিন হল ক্যান্টিনের বাইরে খাওয়া পুরা সপ্তাহের বা মাসের জন্য ধাক্কা।
অনেকের পরিবারেই দেখবেন যে, মন্ত্রী-সচিব পর্যায়ে সব আত্মীয়-স্বজন। আপনি যেই বিভাগের ছাত্র, ঐ বিভাগের প্রফেসর কারো বাবার ফ্যামিলি ফ্রেন্ড। সুতরাং, আপনার ঐ বন্ধুর সারা দিন পাংখা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা তার জন্য চিন্তার ব্যাপার না। তার জন্য চিন্তা করার লোক আছে।
মুশকিলটা হল, আমি কোথা থেকে উঠে আসছি তা ভুলে গিয়ে, অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে "কুল" হওয়ার (অপ)চেষ্টা করা। দিন শেষে দেখা যাবে, যাদের সাথে আপনি অযথা হ্যাং আউট করে আপনার সময় নষ্ট করছেন, তারা আস্তে করে ভালো জবে ঢুকে গেছে, সময় মত বাইরে পাড়ি জমিয়েছে। আপনি কারো কাছে অভিযোগ করতে পারবেন না। ঐ সব বলে লাভ নেই, ওর বাপের এই আছে সেই আছে, তাই সে করতে পারছে!
আমার জন্য হয়তো বা চিপায় চা খাওয়া, লাইব্রেরীতে বন্ধুদের সাথে হ্যাং আউট করা, আজান দিলে ওজু করে মসজিদে যাওয়া, ক্লাসে সিরিয়াস/আতেল হিসেবে থাকা, কোন মেয়েকে অনেক ভালো লাগার পরও তার ছায়া এড়িয়ে চলা, অনার্সের পর বাইরে আপ্লাই করার জন্য কিছুটা টাকা এখন থেকেই জমিয়ে রাখা, ইন্টারনেট আর স্মার্ট ফোনের পিছনে টাকা অপচয় না করা - এসব কাজই শ্রেয়। মধ্যবিত্ত এবং নিন্মবিত্ত (সব) পরিবারের ছেলেদের "মাথা" ব্যাতিত অন্য কোন কিছু দিয়ে "কুল" হওয়ার চেষ্টা করাটাই "ভুল"।
নিউজ ফিডে দৃশ্যমান অনেকের জন্যই এটা সত্য। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করবেন।

No comments:

Post a Comment