Saturday, April 30, 2016

শিক্ষকতার মানে

পিএইচডির জন্য আমার ক্লাসের পরিমান খুবই কম। অধিকাংশ ক্রেডিট মূলত অ্যাসাইনমেন্ট, প্রোজেক্ট আর প্রেজেন্টেশানের উপর নির্ভর করে। কোর্স গুলো যারা নেয়, তারা অধিকাংশ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। অনেক ক্লাস স্যাটালাইটে কন্ডাক্ট করা হয়। এতে করে একটা বিশাল সুবিধা হয়। যিনি যেই কোর্স পড়াচ্ছেন, তিনি সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ না শুধু, মোটামুটি ফিলোসোফার।
আমার ক্লাসের পরিমান কম হওয়ায়, প্রতি সেমিস্টারে আমার সুপারভাইজর যেই কোর্স পড়ান, ঐ ক্লাসে আমি গিয়ে বসে থাকি। উনি খুবই ব্যাসিক কিছু কোর্স পড়ান। টপিক শুনলে মনে হবে, আরে এই জিনিস তো আগে পড়ছি, আমি পারি। কিন্তু, ক্লাসে বসার পর দেখি আসলে আমি কিছুই পারি না। আর উনার ক্লাস চলাকালীন সময়ে অনেক জাপানিজ স্টুডেন্ট (যাদের এই কোর্স নাই) ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে উনার লেকচার শুনে, অনেকে আবার নোট নেয়।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকুক বা না থাকুক, যে আছে তাকে দিয়েই কোন মতে কোর্স চালিয়ে দেয়ার কালচার এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
আর কিছু শিক্ষক ভালো পড়ালেও, অধিকাংশদের অবস্থা হচ্ছে যে, উনিও জানেন না কি পড়াচ্ছেন, আর স্টুডেন্টরা তাই ক্লাসে ঘুমায়, নাইলে পত্রিকা পড়ে, আর নাইলে পিছন দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এমন কোন শিক্ষক দেখি নাই, যার ক্লাস শোনার জন্য স্টুডেন্টরা দরজার বাইরেও দাড়িয়ে থাকে।
এবার একটা গল্প না বললেই না। আমি চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায়, তৃতীয় বর্ষের স্টুডেন্টদের সাথে প্রোগ্রামিং ক্লাস করতে গিয়ে ছিলাম কিছু দিন। তখন তৃতীয় বর্ষের একজন আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলো,
"আচ্ছা, অপু ভাই কি গত বছর এই কোর্সে ফেল করছিলো নাকি? উনি দেখলাম আমাদের সাথে ক্লাস করে। উনার তো এতো খারাপ করার কথা না!"
আমাদের মাঝে ক্লাস করা মানে ঠেকায় পড়ে কিছু করা। এমনিতেও যে জানার বা শিখার জন্য পরীক্ষার বাইরে ক্লাস করা যায় বা করা উচিত, এই অনুভূতিটাই নাই।

No comments:

Post a Comment