১.
ঈদের আগে আগে হাতে আমাদের কেনাকাটার জন্য টাকা থাকুক বা না থাকুক, শপিং মলে ঘুরা বন্ধ থাকতো না। কেউ একটা প্যান্ট কিনবে শুনলে সাথে আর ও পাঁচ জন যেতাম। অনেক সময় যে কিনতে যেতো তারই কিছু কেনা হত না। জানি না বসুন্ধরার সেই কফি শপের দোকানি আমাদের মনে করে কিনা। এমন রেগুলার খদ্দের পাওয়া মুশকিল।
২.
প্রতি ঈদের আগে ভাবতাম যে এই বার ঈদ হলে করবো আর পড়ালেখা করে উল্টায় ফেলব। হলের অফিসে গিয়ে নাম লিখায় আসতাম যে এই বার আমরা থাকতেছি হলে। কিন্তু, ঠিক আগের দিন বাসায় চলে যেতাম। আর বাসায় গিয়ে বলতাম যে, আমাদের ফার্স্ট গার্ল ঈদে কোথাও যায় না, এই কারনেই ও ফার্স্ট। আর আমার বাসায় আসা লাগে, আমি কিভাবে ওর সাথে কম্পিটিশন করবো। আব্বু বলতো, সারা বছর কিছু করতে পারে না, ঈদে পইড়া ফার্স্ট হইয়া যাবে!
৩.
আমার এলাকা টঙ্গীতে আমার বন্ধুর সংখ্যা সীমিত। অল্প কয়েক জন। কিন্তু, খুবই মাখামাখি সম্পর্ক। ঈদের নামাজ পড়েই ওদের বাসায় গিয়ে হামলা করতাম। আর কেউ মিস করুক বা না করুক, তোরা আমাকে মিস করবি। কারণ, আমার ঈদের কোন জামা থাকতো না আলাদা, পুরাতন টি-শার্ট পড়ে ওদের সাথে ঘুরতাম। তোরা আজকে আমাকে পচাইতে পারবি না চিন্তা করেই আমার খারাপ লাগতেসে।
৪.
ঈদের পর কলেজের বন্ধুদের সাথে উত্তরায় একত্রিত হওয়া। আর আমাদের সকলের মধ্যে বন্ধুত্ব গভীর হয়েছিলো কলেজ পালাতে গিয়ে ধরা খাওয়ার পর। যদিও ভাগ্য গুনে শেষ পর্যন্ত কলেজ থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয় নাই। গেট টু গেদারে সবার এক বছরের জমিয়ে রাখা সব মজার গল্প গুলো শুনার সুযোগ হবে না।
৫.
কিন্তু, এই সব কিছুর চেয়ে ও যেই জিনিসটা বেশি মিস করবো; আব্বুর সাথে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া। নামাজ শেষে অনেকের সাথে আব্বুর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া। মুরব্বীদের কঠিন কঠিন "ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা" নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বাসায় তেমন কোন মেহমান না আসার কারনে আম্মুর রান্না করা সেমাই, নুডুলস আর চটপটি সারা দিন খেয়ে শেষ করে পাতিল ক্লিয়ার করার প্রোজেক্ট। লিজা আপুর সাথে ঈদের নাটক দেখা। বাসার পিচ্চি গুলোর সাথে গেঞ্জাম করা।
আমি জানি না, কে আমাকে কতো টুকু মিস করে অথবা করবে। তাই মাঝে মাঝে এটা ভেবেই সুখী থাকি যে, আমাদের হলের ঝাড়ুদার কাম রিস্কা চালক শাহিন মামা আমাকে মিস করবেই। সে আমাকে চাইলে ও ভুলতে পারবে না।
No comments:
Post a Comment