Wednesday, August 30, 2017

আলু’র নামকরন

আমাদের পিচ্চিকে নিয়ে আমরা খুবই এক্সাইটেড। সারাক্ষণ আমরা ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। খেয়াল করি তার প্রতিটা মুভমেন্ট। ও যা করে তাই দেখতে ভাল্লাগে। কিন্তু, চিন্তার ব্যাপার শুরু হয় তার নাম রাখা নিয়ে। সন্তান জন্ম দেয়া আর তাকে বড় করার দায়িত্ব বাবা-মায়ের হলেও কিছু কাজে পরিবারের সবাই শামিল হয়। ভালোভাবে বললে, নাক গলাতে আসে। যেমনঃ বাচ্চার নাম রাখা, স্কুল নির্ধারণ, কোন বিষয়ে পড়বে, কাকে বিয়ে করবে – এই সব আর কি। তবে নাম রাখার প্রশ্ন আসলে, এই কাজে শামিল হয় পরিবারের ৫ বছর থেকে শুরু করে ৭০ বছর – সবার সাজেশন। পিচ্চিরা সাজেস্ট করবে কিছু আধুনিক বা ডিস্কু টাইপের নাম, আবার অন্য দিকে বয়স্করা সাজেস্ট করবে একটু বুড়া কিসিমের নাম, পরিবারে ধার্মিক কেউ থাকলে সে রাখতে চাইবে ইসলামিক নাম, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া কেউ থাকলে সাজেস্ট করবে একটু আলট্রা মডার্ন নাম, আর বাবা-মা তো চাইবে নিজেদের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখতে। অনেক সময় সবার অনুরুধ রাখতে গিয়ে নাম দাড়ায়ঃ আবদুল বাতেন (বিকি)। আবদুল বাতেন ভালো নাম, আর বিকি ডাক নাম। মেয়ে বাবুর জন্য পিচ্চিরা সাজেস্ট করবে টেইলর সুইফট, হিলারি ডাফ, রিয়ানা অথবা শাকিরার মত নাম। মুরুব্বিরা বলবে আকলিমা, জুলেখা, সখিনা, মরজিনা টাইপের নাম, যা মাঝে মাঝেই বাসার কাজের বুয়ার নামের সাথে মিলে যায়! ইসলামিক নাম সাজেস্ট করার ক্ষেত্রে সবার উপরে ফাতিমা। আমার এক বন্ধুর মা এবং মেয়ে দুই জন এর নামই ফাতিমা। ইউনিভার্সিটি পড়ুয়ারা একটু উদাস উদাস নাম রাখে। আমার বন্ধু তার ভাতিজার জন্য দুইটা নাম ঠিক করে। কিন্তু, তার ভাই ভাবী ঐ নাম না রাখাতে সে খুব মন খারাপ করে। নাম দুইটা হলঃ অহর্নিশ আর অস্থির! আমি শুনে বললাম, “এই সব নাম শুনলেই তো মনে হয় সে একটু প্লেবয় টাইপ। তোর দেয়া নাম না রেখে ভালো করসে”। আমি আমার নামের সাথে মিলিয়ে রাখার চেষ্টা করলামঃ এঞ্জেলা। প্রথমত, নামটা “A” দিয়ে শুরু, সে আমাদের জন্য প্রথম, তাই আমাদের এঞ্জেল। আর নামটা শুনতেও আধুনিক বেশ।


বিপত্তি বাধল অন্য জায়গায়। আমাদের পিচ্চিটা দেখতে মাসাল্লাহ গোলগাল। ওর দোষ দিয়ে লাভ নাই, জেনেটিক্স বলে ব্যাপার স্যাপার আছে। আমরাও বেশ নাদুস নুদুস। আর সে খুব পটেটো-জাতীয় খাবার খায়। যেমনঃ সিদ্ধ আলু, মিষ্টি আলু, আলুর চপ, আলুর দম, আলু ভাজা (ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস), আলু ভাজি, আলুর ভর্তা, পটেটো সালাদ, পটেটো চিপস! তার এই পটেটো-প্রিয় স্বভাবের কারণে আমরা তারে ডাকা শুরু করলাম “আলু” বলে। সত্যি কথা বলতে ওর “এঞ্জেলা” নামটা আমরা ভুলতে বসেছি, আজ লিখতে গিয়ে মনে পড়ল। কারণ ওর এখন ভালো নামঃ আলু আশরাফ! 

No comments:

Post a Comment