গেলো রোজার ঈদে আলু মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
কারণ, ঈদের সময় ঈদ সালামির নামে চাঁদাবাজির ব্যাপারটা তার জানা ছিল না! ব্যাপারটা
সে বুঝে উঠতে উঠতে ঈদ শেষ হয়ে যায়। দুপুরের পরে সে দেখতে পারে যে, সবার টাকা রাখার
ব্যাগ আছে, সবাই বেশ ভালই টাকা পয়সা উপার্জন করেছে। এই কারণে কোরবানির ঈদে সে আগে থেকেই
প্রস্তুত হচ্ছিলো। টাকা-কড়ি রাখার জন্য তার আম্মু একটা ছোট্ট কিউট ব্যাগ কিনে
দিছে। আর তাকে শিখানো হইছে যে, টাকা পাওয়ার জন্য মুরুব্বিদের সালাম করতে হয়। সালাম
দুই ভাবে করা যায়ঃ ডান হাত কপাল পর্যন্ত জাগিয়ে আসসালামুআলাইকুম বলে এবং হাত দিয়ে
পা ছুঁয়ে।
ঈদের দিন সকাল বেলা থেকেই সে খুব এক্সাইটেড। বার বার তার
টাকা রাখার ব্যাগ খুলে দেখে। ঐটা নিয়ে নাস্তা করে, গোসল করার সময়ও তা সাথে নিয়ে যায়,
কাপড় পড়ার সময় সাথেই রাখে। তার আম্মু সে ঘুম থেকে উঠার আগেই ঐখানে কিছু টাকা রেখে
দেয়। সে সকালে ঐটা দেখে তার প্রত্যাশা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঈদের সকাল থেকেই সে লেগে
পরে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সালাম করার কাজে। অতি ক্ষুদ্র মানুষ, তাই সবাই খুশি
হয়ে তাকে আদর করে, সালামি দেয়। বয়স আর কিউটনেস কাজে লাগিয়ে সে ভালই সালামি সংগ্রহ
করতেছিল। বিপদ বাধল, তার আম্মু তাকে আবিষ্কার করে যে, সে কোরবানির ছাগলটাকে গিয়ে আসসালামুআলাইকুম
বলে এবং হাত দিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করতেছে। সাথে সাথে তাকে ঐ জায়গা থেকে পাকড়াও করে
নিয়ে আসা হয়। সে তো প্রচণ্ড কান্না! এই কান্না তার রুজি রোজগারের পথে বাধা দেয়ার
জন্য। বেচারির বা কি দোষ, সে তো আর জানে না যে, ছাগলের কাছে টাকা নাই, ছাগল সালামি
দেয় না। সে জানে পা ছুঁয়ে সালাম করলে টাকা পাওয়া যায়। আর ছাগলের চারটা পা, বেশি
টাকা পাওয়া যেতে পারে। ভাগ্য ভালো, গরুর পা ছুঁয়ে সালাম করতে যায় নাই!
No comments:
Post a Comment