Sunday, September 9, 2018

ক্যারিয়ার আর বয়স

রামানুজানের উঠে আসার পিছনে যার অবদান সব চেয়ে বেশি, উনি হলেন হারডি। “The man who knew infinity” সিনেমাতেও উঠে এসেছে এই ব্যাপারগুলো। উনার লেখা “A Mathematician’s Apology” পড়লাম এই সপ্তাহে। বইটা খুব ছোট আর সিম্পল। প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। নাম্বার থিওরির অনেক অসাধারণ ব্যাপার সাধারন ভাষায় বর্ণনা করা, সাথে সাথে গনিতের সৌন্দর্য আর নিজের ব্যাক্তিগত পর্যালোচনা। উনি খুব বিনয়ীর ভাষায় উল্লেখ করেনঃ “আমার মনে হয় না আমি আমার ক্যারিয়ারে এমন কিছু করেছি, যার দ্বারা মানুষ সরাসরি কোন সুফল পাবে।” বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সায়েন্সে বিনয়টা ঢাকা পড়ে গেছে, টিকে থাকার দায়ে কথা-বার্তা আর মন্তব্য হয়েছে প্রশস্ত। প্রতি আর্টিকেলেই সামান্য একটু অবদানের জন্য আমরা উপসংহার টানি লম্বা লম্বা। পুরা সায়েন্সকে যদি একটা পিরামিড ধরি, তাহলে এক একটা মেজর আর্টিকেলকে ধরা যায় একটা পাথর। আমরা সবাই একটা একটা করে পাথর বসানোর চেষ্টা করতেছি এক এর পর এক। এখন, আমি একটা পাথর বসানোর পর ব্যাপারটা দুই ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি। “আমি পিরামিডটা বানাইসি” অথবা “আমি পিরামিড বানানোতে একটা/দুইটা পাথর বসিয়েছি”।
এমন একটা সিরিয়াস বইয়ে উনি চমৎকার একটা উদাহরণ দেন। সেটা হল “বয়স” নিয়ে। উনি কয়েকজন মেধাবী এবং খ্যাতিমান ম্যাথিমেটিসিয়ানের উদাহরণ টানেন। যেমনঃ Galois ২১ বছর, Abel ২৭ বছর, Ramanujan ৩৩ বছর এবং Riemann ৪০ বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু, তাদের অবদান টিকে গেছে যুগের পর যুগ। বয়স জিনিসটা আজও সায়েন্সে একটা বিরাট ব্যাপার। পোস্টডক পজিশনের জন্য প্রায়ই বেধে দেয়া হয় ৩০ বছরের গণ্ডি আর ফ্যাকাল্টি পজিশনের জন্য ৩৫ বছর। এই বয়স সীমার কারণে ভালো প্রোফাইলের রিসার্চ নিয়েও অনেকে আবেদন করতে পারেন না। বয়স সীমার পিছনের যুক্তিটা হলঃ কেউ যদি আসলেই রিসার্চে একটিভ হয় তাহলে অনেক আগেই তার ক্যারিয়ার অনুসারে এই পর্যায়ে চলে আসা উচিত। আর বয়সের সাথে সাথে প্রোডাক্টিভিটি যে কমে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে সাধারন হিসেবে, কোন ভালো ল্যাব একটা পজিশন ওপেন করলে সিভি জমা পড়ে কয়েক শত থেকে হাজার। এই সিভি থেকে কাউকে আলাদা করা খুবই মুশকিল। কারণ, ৮০% প্রার্থীর প্রোফাইল খুব কাছাকাছি। বয়সের ব্যাপারটা এই সংখ্যাটা কমিয়ে আনে বিশাল ভাবে।
Based on “A Mathematician’s Apology” by G. H. Hardy

No comments:

Post a Comment