আমি বলতে গেলে কানা প্রকৃতির মানুষ। সব সময় চশমা লাগে।
কিন্তু, আলু’র আম্মুর চোখ মাসাল্লাহ ভালো। তার চশমা লাগে না। মাঝে মাঝে বাইরে
ঘুরতে গেলে আলু’র আম্মু সানগ্লাস পড়ে, কিন্তু আমার কখনোই পড়া হয় না। আমি বাসায়
কম্পিউটারে কাজ করলে বা পড়া লেখা করলে, আলু আমার চশমা খুলে নিয়ে নিজের চোখে দিয়ে
বর্ণমালার বই পড়ে। না দিলে তো সর্বনাশ। কান্না-কাটি করে, আমাদের মারতে আসে। যখন
কিছু ক্ষণ পড়ে থাকার পর কেমন কেমন লাগে, তখন খুলে দিয়ে যায়। আর বাইরে গেলে তার
আম্মুর সানগ্লাস নিয়ে টানাটানি করে। আর বলতে থাকেঃ “মামুনি, আলু রোদ। আলু রোদ।” ওর
আম্মুর সানগ্লাস তার চোখে বড় হয়। বার বার খুলে পড়ে যায়। একদিকে তাকে সামলানোই
ঝামেলা, তারপর ঐ সানগ্লাস ঠিক করে দেয়া বার বার এক্সট্রা দায়িত্ব হয়ে যায়।
আমরা একদিন ভাবলাম, আজকে বের হয়ে প্রথমে তাকে সানগ্লাস কিনে
দিবো। তারপর পার্কে যাবো ঘুরতে। পথে একটা শপিং মল থেকে তার জন্য সানগ্লাস কেনা হল।
সারা দিন ঐ সানগ্লাস পড়ে ঘুরসে। নতুন নতুন সানগ্লাস পড়ে দৌড়াতে গিয়ে কয়েক বার পড়ে
গেছে। সারা দিন মারাত্মক খুশি। কিন্তু, বিপদ হইলো বাসায় ফিরে। সে তো সানগ্লাস পড়ে টিভি
দেখে, বাথরুমে যায়, খাওয়া দাওয়া করে। সারা দিন বাইরে খেলে পার্কের সব ময়লা শরীরে
করে নিয়ে আসছে। গোসল করার জন্য নিয়ে গেছি, তা ও সে সানগ্লাস খুলে না। বলে যেঃ “আলু
ভালো লাগে। চশমা আলু ভালো লাগে।” এই সানগ্লাস পড়েই সে গোসল করছে। তার মা বাথ টাবে ঐ
অবস্থায় কিছু মজার মজার ছবি ও তুলছে। ঘুমানোর টাইম হইছে, তা ও সে সানগ্লাস খুলে
না। তারে এখন কিভাবে বুঝাই, ঘুমালে সানগ্লাস লাগে না, তখন দেখার কিছু নাই, রোদ
নাই। অনেক চেষ্টা করে যখন কাজ হল না, আমরা ও ক্লান্ত হয়ে ঘুমায় গেলাম।
মাঝ রাতে আলু’র কান্নার চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমাদের। সে চিল্লায় আর বলেঃ “আলু দেকে না, আলু দেকে না”। মাঝে মাঝে সে মাঝ রাতে উঠে। কিন্তু, কান্না করে না। বাথরুম যায়। আবার ঘুমায় পড়ে। ভাবলাম যে, অন্ধকার দেখে ভয় পাইছে। সাথে সাথে লাইট দিলাম, আর তখন আমাদের মনে হল সে তো সানগ্লাস পড়ে ঘুমাইসে। এই কারণে কিছু দেখে না। এবার এই সুযোগে খুলে নিলাম সানগ্লাসটা। আবার ঘুমায় পড়ল। সকালে উঠেই আবার কান্না, “আলু চশমা নাই, আলু মন খারাপ!” তারপর সানগ্লাস দেয়া হল, সেই সানগ্লাস পড়ে খাবার টেবিলে বসে সে এখন ডিম-পরোটা খাচ্ছে। আর একটু পর পর আমাদের দিকে তাকায়, আমি তো ওরে দেখি আর হাসি, কফি খাই আর পিসিতে তার এই ঘটনা লিখতেছি। এবার নতুন অভিযোগ তার মায়ের কাছেঃ “মামুনি, পাপা আলু দিকে হাসে। আলু ভালো লাগে না। পাপা, কে মাইর দাও। আলু মাইর দিলে কান্না, পাপা ও মাইর দিলে কান্না কব্বে।”
No comments:
Post a Comment