আলু মনি এখন বেশ হাঁটাহাঁটি এবং দৌড়াদৌড়ি শিখছে। আগের মত সে
সারাক্ষণ বাসার বিছানায় আর মেঝেতে থাকে না। বাইরে ঘুরতে যায়। বাইরে গেলে সে কোলে
থাকতে চায় না। নেমে নিজের মত হাটে, দৌড়ায়। স্বভাবত কারনেই তার জুতা দরকার। তার
আম্মু নিয়ে গেছে জুতা কিনতে। তাকে এক জোড়া জুতা পড়ানোর পর তার আম্মু বললঃ “মা,
একটু হাঁটো তো।” সে একটু হাঁটল। তারপর একটু দৌড় দিলো। এর পর সে এক জোড়া জুতা ট্রায়াল
দেয়ার জন্য পায়ে দেয় আর পুরা শো-রুম দৌড়ে এক চক্কর মেরে আসে। সে তো আর এখন ফিক্সড
করে বলে না আলু’র কোনটা সব চেয়ে বেশি ভালো লাগছে। কারণ, এই জুতা ট্রায়াল দেয়া তো
তার কাছে খেলায় পরিণত হইছে। জুতা পড়ে, দৌড় মারে, দৌড়ে শো-রুম ঘুরে এসে বলেঃ “আলেকটা,
মামনি, আলেকটা”। সেলস ম্যান তো বিরক্ত! অবশেষে তাকে থামানোর জন্য বলা হল, আর জুতা
নাই, শেষ! এর মধ্যে থেকে কোনটা আলু’র ভাল্লাগে? সেখান থেকে কয়েক জোড়া জুতা নেয়া হল
তার জন্য।
এবার তার আম্মু জুতা দেখতেছে। তো তার আম্মুও ট্রায়াল দেয়।
সে তার আম্মুকে বলেঃ “মামনি, রান, রান করো।” সে চায় তার আম্মুও তার মত ট্রায়াল
দেয়া জুতা পড়ে শো-রুম দৌড়াক। তার আম্মু তো আর বাচ্চা মানুষ না যে দৌড়াবে। এই বার
সে কান্না শুরু করে দিলো। অনেক অভিযোগ তার। “মামনি, কতা ছুনে না! মামনি, রান কলে
না। মামনি, পচা।” তাকে থামানোর জন্য তার মা পরে ট্রায়াল দেয়া জুতা পড়ে পুরা শো-রুম
হাটা লাগছে। তারপর সে থামলো।
এবার তার মা টাকা দিয়ে বের হয়ে যাবার সময় বলতেছে, “পাপা,
জুতা নাই, মামনি। পাপা জুতা।” তার মা এবার ক্ষেপে গিয়ে বলতেছে, “তোরে বাসায় নিয়ে
তোর পাপার সাথে সাইজ করবো। এর পর থেকে তোর বাপের সাথে আসবি জুতা কিনতে। বাপ-মেয়ে
মিলে জুতা পড়ে পড়ে শো-রুম না, পুরা মার্কেট দৌড়াবি আর সবাই দেখে দেখে হাসবে!
পাগলের গোষ্ঠী!”
No comments:
Post a Comment