আলু রীতিমত যানবাহনের উপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছে। বাস,
ট্রেন, গাড়ি, প্লেন, রিক্সা, নৌকা, জাহাজ। সব কিছুতেই সে মোটামুটি চড়েছে। তার
সবচেয়ে প্রিয় হলঃ ট্রেন। এর কিছু কারণ আছে, জাপানে এসে সে বুলেট ট্রেনে চড়ে, তার
নানা বাড়ি যাবার সময় ট্রেনে চড়ে চট্রগ্রাম যায়। আর ট্রেনের মধ্যে বসে নবাবের মত
পটেটো চিপস খায়। তো একবার সে তার আম্মুর সাথে ট্রেনে চড়ে চট্রগ্রাম যাচ্ছে। ট্রেনে
এসি আছে, কিন্তু বাইরে অনেক গরম। ট্রেনে উঠেই সে বহুত পেঁচাল পারা শুরু করছে।
আলুঃ মামুনি, ট্রেন যায় না! ট্রেন যায় না!
আম্মুঃ যাচ্ছে তো মা।
আলুঃ বাবা ট্রেন জোরে জোরে যায়। মামুনি, ট্রেন যায় না।
আম্মুঃ আহারে, এটা ও একটু পর জোরে যাবে। তুমি চিপস খেয়ে
ঘুমালেই জোরে যাবে।
আলুঃ মামুনি গরম।
আম্মুঃ মা, ট্রেনে এসি আছে। একটু পর ঠাণ্ডা লাগবে।
আলুঃ বাবা ঠাণ্ডা। মামুনি গরম।
আম্মুঃ ঐ তুই থামবি? তোর বাপ তো কুল, তাই ঠাণ্ডা। আর আমি তো
সব সময়ই গরম।
আলুঃ মামুনি, ও তাকায়।
আম্মুঃ তাকাইলে কিছু হয় না, মা। ও তোমাকে কিছু করবে না।
আলুঃ চিপস তাকায়। আলু পেট ব্যাথা রাতে।
আম্মুঃ হই, তোর কিচ্ছু হবে না! তোর পেতে আলু গাছও হজম হয়ে
যাবে! চুপচাপ খা!
তার বাসায় খেলার রুমে ট্রেন আছে, ট্রেনের ট্র্যাক আছে। সে
ইচ্ছা মত ট্র্যাক বানায়। ঠিক করে কোথায় নানা বাড়ি, দাদা বাড়ি, কোথায় জাপান। সব এক এক
করে সাজায়। তারপর আমাদেরকে ডেকে দেখায়। একদিন খেয়াল করলাম যে, তার দাদা বাড়ি সে
উদাও করে দিছে। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ “আলু, দাদা বাড়ি কই গেলো?” আলু খুব গভীরভাবে আমাদের
দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞের মত বলতেছেঃ “দাদা বাড়ি ট্রেন যায় না। গাড়ি যায়। আলু গাড়ি ভালো
লাগে না।”
আল্লাহ কোন দিন ভাবি নাই যে, কেউ বাসায় এসে বলবে তোমাদের
বাসায় গ্যারেজ আছে, কিন্তু ট্রেন পার্ক করার জায়গা নাই, তাই আসতে পারবো না আমি।
আমি ট্রেন দিয়ে চলাচল করি। তারপর আব্বুকে এক দিন বলতেছিঃ “তোমার নাতনী বাসার ফিচার
নিয়ে মারাত্মক ফ্ল বের করছে। এটা শুনলে তোমার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার হুমকির
মুখে পড়বে। আমাদের বাসায় ট্রেন পার্ক করার জায়গা নাই। তাই নাকি আলু আসতে পারতেছে
না।” আব্বু বরাবরই রসাত্মক উত্তর দেয় সব কিছুর। আব্বু বলতেছেঃ “ওরে বইলো যে, দাদা
মালবাহী ট্রেন পার্ক করার জায়গা করছে বাসায়। কিন্তু, যাত্রীবাহী ট্রেন পার্ক করা
যাবে না। পুরা ফ্যামিলি তো ফুলে ফুলে বস্তার সাইজ হইছে। আলাদা আলাদা যাত্রীবাহী মালবাহী
ট্রেন পার্ক করার জায়গা করা স্পেস এবং ইকনোমিক না। তাই দাদা ভাই বলছে, আলু-বাবা-মা
অন্য বস্তার সাথে যেন ঢুকে পড়ে। এখানে আসলে দাদা ভাই চালের বস্তার সাথে আনলোড করে
নিবে তোমাদেরকে।” জীবনে একটা বড় ভুল হল, আমার বাপের সাথে মন খুলে কথা বলতে যাওয়া।
বলতেছিলাম পিচ্চির কথা, সে পুরা ফ্যামিলিকে “বস্তা” বানায় দিছে। তাও ভালো, আরও
খারাপ কিছু বলে নাই। আর ঘটনা সত্য, আমরা সবাই আনুপাতিক হারে ফুলতেছি!
No comments:
Post a Comment