বাসায় কি রান্না হবে তা এখন আর আমাদের উপর নাই। আমাদেরকে
জিজ্ঞেস করা লাগে আলু মনিকে। সে কি খাবে, তার কি খেতে মন চায়, কোনটা খেতে ভালো লাগে।
যেমনঃ সকাল বেলা হতে পারে পরোটা অথবা ভাত। আমরা যদি তাকে বলিঃ “আলু, ভাত রান্না
করি আজকে?” সে বলবেঃ “পলটা, পলটা”। আমরা যদি বলিঃ “সবজি রান্না করি। ভেজিটেবল মজা।”
সে বলবেঃ “আলু ডিম ভালো লাগে।” এই পছন্দের ব্যাপার জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে। বার্গার
নাকি স্যান্ডউইচ, নুডুলস নাকি পাস্তা, চিকেন নাগেট নাকি সমুচা, খিচুড়ি নাকি
বিরিয়ানি, চিকেন নাকি বিফ। আমরা যেইটা করার প্ল্যান করি, সে তার উল্টাটা চাইবে। তার
মা খুব ভালো বুদ্ধি বের করছে। ধরি আজকে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি বললাম খিচুড়ি খাবো। তার
মা আলুকে গিয়ে বলেঃ “আলু, আজ বিরিয়ানি রাঁধি?” আলু সাথে সাথে বলবেঃ “আলু খিথুরি, আলু
খিথুরি”। ব্যাস, এই টেকনিক ভালোই কাজ করছিলো। কিছু দিন আগে তার আম্মু বাসায় লুচি
বানায়। আর আমরা সব সময় সব কিছুতেই আলু দেই ওর জন্য। লুচির সাথে তার আম্মু আলুর দম
বানালো। আলু ও খাইছে আমাদের সাথে লুচি আর আলুর দম। তারপর থেকে দুপুর-রাত-সকাল-সন্ধ্যা
তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই বলেঃ “লুচি, লুচি, লুচি।” তার মায়ের কষ্ট বেড়ে গেছে। সে বার
বার নিজ হাতে বানায়। কিন্তু কথা হল, এভাবে কয় দিন! তাকে থামানো লাগবে। আমরা
জিজ্ঞেস করলামঃ “মামুনি, লুচি এত্ত ভালো লাগে কেন?” সে বলতেছেঃ “আলু ছোট, লুচি
ছোট। বাবা-মা বড়, পলটা ও বড়।” আহ! এইবার বুঝতে পারছি, তার লুচির প্রতি আকর্ষণের
কারণ। এবার তার মা ভাতের সময় রাইস বল বানায় দেয় ছোট করে, আর ভিতরে সবজি ভরে দেয়।
এটা পুরাই জাপানিজ স্টাইল। নুডুলস – পাস্তা যাই বানানো হোক, তাকে ছোট সাইজের
বাটিতে দেয়া হয়। ধীরে ধীরে তাকে লুচির উপর অত্যাচার করা থেকে সরিয়ে আনা গেলো।
কিছু দিন পরে সে নানা বাড়ি বেড়াতে গেছে। সেখানে তো আর কেউ
তার জন্য ছোট সাইজ করে সব বানায় না। এবার আবার তার মনে পড়ে গেছে। ছোট সাইজ, লুচি।
তাকে তার নানা-নানি কাছে ডাকে, সে যায় না। খাবার টেবিলে বসে অন্য দিকে মুখ দিয়ে
তাকিয়ে থাকে। আর বলেঃ “আলু ভালবাসে না।” এটা বুঝা খুব মুশকিল। আলু খাবার ভালবাসে
না নাকি সে ভাবে তাকে কেউ ভালোবাসে না। এবার সে আই প্যাড নিয়ে স্কাইপেতে আমাকে কল
দিছে। বলতেছেঃ “পাপা, আলু জাপান ভালো লাগে। আলু জাপান যাই।” আমি বলতেছিঃ “মা, কিছু
দিন নানা বাড়ি বেড়াও। তার পর দাদা বাড়ি। তারপর আসবা। ঠিক আছে?” আলু আরও ক্ষেপে
গেছেঃ “নানু, লুচি নাই। জাপান লুচি আলু ভালো লাগে।” এর পর লুচি নামক অত্যাচার শুরু
হল আবার তার নানা বাড়িতে।
সে সব কিছুই খায়। এমন কি আমাদের সাথে প্রতি সপ্তাহে
বারবিকিউতে পেট ভরে চিকেন, বিফ সব খায়। খেয়ে নড়তে পারে না। তারপরও বলেঃ “পাপা, আলু
শুয়ে শুয়ে খায়। আলু আরাম লাগে।” তার মা হাসে আর বলেঃ “বল যে খেয়ে নড়তে পারিস না।
বাপের মত খালি ঘুরায় প্যাঁচায় কথা বলে।” এত কিছুর মাঝে মাঝে প্রায়ই তার লুচি প্রীতি
জেগে উঠে। তখন কিছু দিন আমাদেরকে খুব লুচি খাওয়া লাগে দিন রাত। কারণ, তাকে লুচি দিয়ে
আমরা ভাত খেলে, সে নাক – মুখ কুঁচকে বলতে থাকেঃ “পাপা, ভাত ভালো না। মামুনি, ভাত
ভালো না। আলু লুচি ভালো।” তার লুচি প্রীতি যখন জেগে উঠে টানা হয়তো কয়েক দিন লুচি
খাওয়া লাগে। ঐ সময় তার নানা অথবা দাদার বাসায় স্কাইপ করার সময় যদি জিজ্ঞেস করেঃ “কি
খাইস তোমরা রাতে?” তার আম্মুর সোজা উত্তরঃ “কি আর খাবো! আমাদের “লুচি সপ্তাহ”
চলতেছে।!”
No comments:
Post a Comment