আমি চুল – দাড়ি খুব একটা বড় রাখি না। আবার যে খুব ঘন ঘন চুল
কাটি বা শেভ করি তা ও না। বলতে গেলে কিছু দিন পর পর। আর শেভ করলে গেলে বেশ ভালো
সময় লাগে। এই সব তেমন কোন ঘটনা না। ঘটনা হল আমাদের বাসার প্রধান কুশীলবঃ আলু। আমি শেভ
করার সময় সে গিয়ে দাড়ায় থাকে। তারপর দেখে, হাসে মিট মিট করে। আর আমাকে বলেঃ “পাপা,
সাদা সাদা কর?” আমি ও উত্তর দেইঃ “জি, আম্মা। সাদা সাদা করি।” এবার তার আম্মুকে
গিয়ে বলতেছেঃ “মামুনি, আলু সাদা সাদা কব্বে। পাপা সাদা সাদা, আলুও সাদা সাদা।” তার
মা তো শুনে অবাক। এবার হাতে ধরে নিয়ে আসছে আমার কাছে। বলতেছেঃ “পাপা, আলু সাদা
সাদা কব্বে।” বরাবরের মতই একটা ঝামেলার ব্যাপার।
না করলে কান্না করবে, আর তাকে তো বুঝানো সম্ভব না তোর দাড়ি নাই, তোর শেভ করা লাগবে
না! আর তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমি না করার আগেই সে তার প্রধান অস্ত্র প্রস্তুত
করতেছে, মানে কান্না করে দেয়ার পূর্ব প্রস্তুতি। বাইরে আকাশে মেঘের দিকে তাকালে যেমন
আমরা বুঝি এই বুঝি বৃষ্টি নামলো বলে, আলু’র চেহারা দেখলেও আমরা বুঝি এই বুঝি
কান্না করে দিলো বলে। সাথে সাথে কোলে নিলাম, আর একটু একটু করে শেভিং ফোম লাগায়
দিলাম। আমি তার গালে শেভিং ফোম লাগায় দেই, আর সে খিল খিল করে হাসে। তার আম্মু তো
বলতেছেঃ “সব পাগলের গোষ্ঠী। বড় পাগল ছিল একটা, এখন একটা ছোট পাগল আসছে বাসায়!”
চিল্লা চিল্লি করতে করতে সে গিয়ে ফোন এনে আমাদের ছবি তুলছে। বাপ – বেটীর শেভ করার
ছবি। ফোম গালে মেখে দিয়ে তাকে পাশে দাড় করিয়ে রেখে বললাম যেঃ “চুপ চাপ দাড়িয়ে
থাকো। কিছুক্ষণ পর আমরা মুখ ধুব।” আর আমি রেজর চালানো শুরু করলাম। সে কিছুক্ষণ
দাড়ায় থেকে এবার মুচড়া মুচড়ি শুরু করছে। বলতেছেঃ “পাপা, আলুও লাঠি, গালে লাঠি।”
সর্বনাশ, এটা ও বুঝে গেছে। আমি না করাতে গাল ভর্তি শেভিং ফোম নিয়ে রান্না ঘরে তার
আম্মুকে ধরে কান্না করতেছে আর বলতেছেঃ “আলু, গালে লাঠি পাপা দেয় না। পাপা গালে
লাঠি, আলুও গালে লাঠি।” এবার তার আম্মু তাকে তুলে নিয়ে আসছে। বলতেছেঃ “এখন কি করবা?
খুব তো শখ করে ফোম মাখায় দিস। এবার লাঠি দিয়ে টান মেয়ে দাও।” আমি রেজর থেকে
ব্লেডটা খুলে সান্ত্বনা মূলক টান মেরে দিলাম। আর সে কি যে খুশি।
ব্যাপারটা এখানে শেষ হলেই ভালো হত। দুপুরের খাবার সময় সে
আমার কোলে উঠে বসে আছে। একটু পর বলতেছেঃ “মামুনি, পাপা গাল গন্ধ। আলু গন্ধ নাই।” আহারে,
এই আফটার শেভের গন্ধটা ও তার কাছ থেকে লুকানো গেলো না। তার মা বুঝানর চেষ্টা করলোঃ
“পাপার থেকে পচা গন্ধ আসে। আলু’র থেকে সুন্দর গন্ধ আসে।” সে যুক্তি মানছে না।
বলতেছেঃ “আলু ও পাপা গাল গন্ধ দিব্বে।”
আলু’র যন্ত্রণা গুলো আমাদের কাছে এক অর্থে খুব এঞ্জয় করার
মত। একটা কারণ হল, এঞ্জয় না করে উপায় নাই। আর অন্য কারণটা হল, তার পর্যবেক্ষণ
ক্ষমতা মাসাল্লাহ ভালো। সে সব কিছুর নিজের মত একটা নাম দেয়। যেমনঃ “শেভ” করাকে সে
বলে “সাদা সাদা” করা।
No comments:
Post a Comment