আমাদের আলু মাসাল্লাহ আমরা যা যা কথা বলি সব মন দিয়ে শুনে।
খুব ভালো ভাবে খেয়াল করে। আমরা কা কে কি বলতেছি, কি ভাবে বলতেছি – সব। কিছু দিন ধরে
আলু আমাদের সাথে ঝামেলা করতেছে। বলেঃ “আলু একটা আম্মু, একটা আব্বু। পাপা দুইটা
আম্মু, দুইটা আব্বু।” তার বাক্য ঘটন বেশ মুশকিল। বুঝে উঠা কঠিন। অবশেষে আমরা যেটা বুঝতে
পারলাম, আমি আমার আম্মু এবং আমার শাশুড়ি দুই জনকেই আম্মু ডাকি। আর আমার আব্বু এবং
আমার শ্বশুর দুই জনকেই আব্বু ডাকি। আলু’র মনে প্রশ্ন হইলঃ পাপা এর দুইটা করে আব্বু-আম্মু
আছে, আমার কেন একটা? খুবই বিচক্ষণ প্রশ্ন। এতো দিন পর্যন্ত যেই সব ঝামেলা করে
আসছিলো, তা কোন মতে সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু, এই জিনিস ব্যাখ্যা করা তো কঠিন। তার
আম্মু বুঝাইলঃ একটা মামুনির আম্মু, আরেকটা পাপা’র আম্মু। কিন্তু, সে বলেঃ “মামুনি
ও দুইটা আম্মু, আলু একটা আম্মু।” তার আবদার দেখে মনে হচ্ছে, যে একটা করে আব্বু-আম্মু
থাকাতে তার আদর যত্ন কম হচ্ছে। আরেকটা করে থাকলে বেশি হইত। বাস্তবিক অর্থে তা ঠিক।
আমার শ্বশুর শাশুড়িও আমাকে অনেক আদর করেন।
এবার আমরা আলুকে বুঝাইতে থাকলাম। “আলু তখন আল্লাহ এর কাছে
ছিল। আলুকে আনার জন্য আমরা বিয়ে করছি। আর বিয়ে করলে, একজন আরেক জন এর আব্বু-আম্মুকে
নিজের আব্বু-আম্মুর মতই ডাকে।” সে কিছু ক্ষণ ভ্রু কুঁচকে মুচড়াইতেছে আর বলতেছেঃ “পাপা,
আলু বিয়ে। আলু বিয়ে। আলেকটা পাপা, আলেকটা মামুনি”। এবার তার মা বলতেছেঃ “এক তোর বাপ-মায়ের
বিয়ে করতে কতো কিছু করা লাগছে জানিস? আর জন্ম নিয়েই দুই দিন পরে বিয়ে করতে চাস!”
এবার সে বাসায় হাটে আর বলেঃ “আলু বিয়ে নাই। আলু বিয়ে নাই।” দেখে যে তাকে কেউ পাত্তা
দেয় না, তাই নিজে নিজে আই প্যাড নিয়ে কল দিসে তার দাদাকে। বলতেছেঃ “দাদা ভাই, আলু
বিয়ে নাই। পাপা-মামুনি, আলু বিয়ে নাই।” আমরা অন্য রুম থেকে দৌড়ায় এসে দেখি আব্বু
বলতেছেঃ “তোর বাপ-মার সব খারাপ অভ্যাস ছোট বেলা থেকেই পাইস তুমি। চোখ মুখ ফুটে
নাই, বিয়ে করতে চায়! স্কুলে গেলেই দেখবা যে প্রেম শুরু করে দিছে!” ভয়ে আছি আর কাকে
কাকে স্কাইপ করে বলে যেঃ তার বিয়ে দিচ্ছি না!!!
No comments:
Post a Comment