১৭ সেপ্টেম্বর। আমার আর আলু’র আম্মুর প্রথম ডেট। এই কারণে
প্রতি বছর এই দিনে আমরা বাইরে খাই। বলা যায় সেলিব্রেশন। আলু আসার পর থেকে সে ও আমাদের
সাথে খায়। যদিও সে ভালোই ঝামেলা করে। কিন্তু, আমরা দুই জনে যত কিছু করেছি, বলা যায়
তার গিফট, ফলাফল, সব কিছুই সে – আলু! এবার আমরা ভাবলাম যে ব্যাতিক্রম কোথাও যাই।
অবশেষে ঠিক করলাম যে, ক্যান্ডেল নাইট ডিনার। আলুও গেলো আমাদের সাথে। আমরা দুই জন
মুখোমুখি, আর আলু আমাদের মাঝে। একটু বড়লোক টাইপ রেস্টুরেন্ট, তাই আলো কম। আলু
গিয়েই শুরু করছেঃ “মামুনি, লাইট দিয়ে দাও। আলু দেখে না।” তার মা বলতেছেঃ “তুমি আব্বু
আম্মুকে দেখলেই হবে। আমাদের তো দেখতে পারতেছ।” কিন্তু, সে বলেই যাচ্ছেঃ “ঐখানে কি,
দেখে না আলু। কেউ আলু দেখে না।” আমরা এই বার বলে দিলাম একটু তাড়াতাড়ি মোম জ্বালায়
দিতে। বলার সাথে সাথেই দিয়ে গেলো তারা। এবার আলু তো মোম দেখে অবাক। কারণ, সে
সাধারনত মোম দেখে নাই। কিছুক্ষণ তাকায় থেকে বলতেছেঃ “মামুনি, আগুন! টেবিলে আগুন
থাকে না। আগুন চুলা থাকে।” এরপর সে শিখে গেলো মজার খেলা। ফু দিলে এই আগুন নিভে
যায়। তার গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে থুথু ছিটিয়ে ফু মারে। মোম নিভে যায়, আবার
জ্বালাই, আবার সে নিভায়। এবার সে একটা মারাত্মক জিনিস খেয়াল করল। বলতেছেঃ “মামুনি,
আগুন ছোট হই যায়। আলু ভালো লাগে না।” মানে হল, মোম ছোট হয়ে যাচ্ছে। আর ছোট হয়ে গেলে
সে তো নিভাতে পারবে না। তাই তার ভালো লাগতেছে না। কিছুক্ষণ পর একটা ডিস দিয়ে গেলো,
যেটা অনেকটা লাইভ কিচেন টাইপ। পোর্টেবল চুলার উপর খাবার বসিয়ে দিয়ে গেলো, মিটমিট করে
আগুন জ্বলে, খাবার ভালোভাবে হতে থাকবে আর গরম গরম খাওয়া যাবে। আলু এই চুলার
আগুণকেও ফু দিয়ে নিভাতে গেলো। কিন্তু, হচ্ছে না। এবার সে কান্নাকাটি করে আমাদেরকে
ফু দিতে বলতেছে। আমরা তো এমন ভাবে ফু দেই যেন কিছু না হয়। তার মেজাজ গরম। মোমের মত
এটা কেন নিভতেছে না। এবার যে খাবার দিতে আসছে, তাকে বলতেছেঃ “তুমি ফু দাও। জোরে
জোরে ফু দাও। এখানে এখানে।” সে তো ফু না দিয়ে, তার কথা শুনে হাসে। তার হাসি দেখে
আলু ক্ষেপে গিয়ে বলতেছেঃ “পাপা, ও আলু শুনে না। ফু দেয় না। মাইর দাও ওরে। মামুনি,
মেরে দাও ওরে।” সে আর এখন কিছু খায় না। কারণ এই গুলো চুলাতে রান্না হইছে, আর চুলা
তার ফু তে নিভে নাই, তার মানে তার কথা শুনে নাই। তাই সে খাবে না। বলতেছেঃ “চুলা আলু
শুনে না। আলু মন খারাপ। আলু খায় না। চুলা দিয়ে আলু খায় না।” আমরা তো তাকে খাওয়ানোর
চেষ্টা করতেছি। বলতেছিঃ “মা, কি করলে তুমি খাবা, বল?” এবার সে তার মনের কথা
বলতেছেঃ “ঐ লাঠি আগুন দিয়ে রান্না খাবে আলু।” আবার মোম জ্বালানো হল। তাকে বুঝানো
হল, চুলার নিচে আগুন বন্ধ করে মোম ধরে রেখে, এই রান্না মোম দিয়ে হচ্ছে। কিন্তু, আবার
মোম পেয়ে সে ফু দিয়ে নিভানোতে ব্যাস্ত হয়ে গেলো। খুব একটা কিছু খেলো না আলু। বাসায়
ফিরার পথে দেখলাম গাড়িতেই ঘুম। আমি বলতেছিঃ “বেচারি, না খেয়ে মনে হয় খুদায় ঘুমায়
পড়ছে।” তার আম্মুর ভিন্ন মতঃ “না, না। ফু দিয়ে শরীরের সব শক্তি শেষ। তাই ক্লান্ত
হয়ে ঘুমায় গেছে।”
পরের দিন সে আবার ও সেই মোমওয়ালা দোকানে যেতে চায়। কান্না করতেছে আর বলতেছেঃ “আলু, আগুন দেখে দেখে খায়। আগুন দেখে না আলু। আলু খায় না।” পরে আমি গিয়ে মোম কিনে নিয়ে আসলাম। এবার ডাইনিং টেবিলে মোম জ্বালিয়ে রেখে বললামঃ “এবার খাও।” তারপর তার মাকে বলল লাইট অফ করে দিতে। মোটামুটি আমরা মোমের আলোতেই খেলাম। তারপর থেকে প্রতি সন্ধ্যায় তার আবদার অনুযায়ী মোম জ্বালিয়ে খাই আমরা। বলতে গেলে বছর জুড়ে ক্যান্ডেল নাইট ডিনার! এক রাতে খাবার সময় আলু’র নানু কল দিছে। সে তো আমাদেরকে স্কাইপেতে দেখতে পাচ্ছে না। “কিরে, তোমাদের ঐখানে এমন অন্ধকার কেন?” তার আম্মু বলতেছেঃ “অন্ধকার না, আম্মু। এটা আমাদের রেগুলার ক্যান্ডেল নাইট ডিনার। তুমি বুঝবা না। ক্যান্ডেল নাইট ডিনার শেষ করে তোমাকে কল দিবো।”
No comments:
Post a Comment