আলু সব কিছু খুব গুছিয়ে বলার চেষ্টা করে। কিন্তু, এতো ছোট মানুষ
সে, যতই চেষ্টা করুক, সব কিছু গুছিয়ে বলার মত শব্দ সে এখনও শিখে নাই। তারপর ও সে
চালিয়ে যায় তার কথা বার্তা বড় মানুষের মত। মাঝে মাঝে সেটা হাসির ব্যাপার, কখনো
চিন্তার আর কখনো ভয়ের ব্যাপার।
সে দিন আবহাওয়া খারাপ ছিল। আকাশ পুরা মেঘে ঢাকা। আর এমনিতেও
বৃষ্টি হবার কথা ছিল। আলু বাসার এই পাশ থেকে ঐ পাশে যায়, পিছনে হাত দিয়ে বলেঃ “পাপা,
আকাশ কালো। আলু ভালো লাগে না। পানি পানি হবে। আলু পানি পানি দিয়ে গোসল। মামুনি দেয়
না। আলু ভালো লাগে না।” তার নতুন আমদানি করা শব্দ “পানি পানি” আমরা ঐ দিন প্রথম
শুনি। “বৃষ্টি” জিনিসটা সে শুনে নাই ঐভাবে। কিন্তু, সে যে মনের কথা প্রকাশ করতে
পেরেছে, এটাই ছিল মজার বিষয়। আর বৃষ্টি হলেই সে তার আম্মুকে বলে ঐ বৃষ্টিতে গোসল
করবে। ছোট মানুষ, ঠাণ্ডা লাগতে পারে এই ভয়ে তাকে বৃষ্টিতে নিয়ে যাওয়া হয় না। আমি
ওর আম্মুকে না দেখিয়ে নিয়ে গেলাম। বললামঃ “আলু, শুন, একটু ভিজবি। তারপর চলে আসবি।
এসেই গোসল করবি, যেন তোর মা বুঝতে না পারে।” কি বুঝে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। একটু
কয়েক সেকেন্ড ভিজিয়ে টান মেরে ভিতরে নিয়ে আসছি। খিল খিল করে হাসে। তার পর আর একটু,
তার পর আর একটু, এমন করে বাপ-মেয়ে ভালোই ভিজলাম। এই বার বাসায় ঢুকে কানে কানে বললামঃ
সোজা বাথ ট্যাবের দিকে চলে যাও, মামনি যেন না দেখে। বাবা গোসল করায় দিবো, মামনি
বুঝবে না। নামায় দেয়ার সাথে সাথে, যেই কথা সেই কাজ। সে দৌড় দিলো, গন্তব্য বাথ
ট্যাব। সব কাপড় আর সারা শরীর ভেজা। এই অবস্থায় দৌড় দিয়ে বাথ ট্যাবের দিকে যাওয়ার সময়
ধপাস করে পড়ল মেঝেতে। সাথে সাথে চিৎকার আর ওর আম্মু ছুটে আসলো। এই অবস্থা দেখে তো
ওর আম্মু ক্ষেপে গিয়ে বলতেছেঃ “তুই বৃষ্টিতে গেছিস কেন?” আলু বলতেছেঃ “আলু যায় না।
বাবা নিয়ে যায়। আলু ভিজায় দেয়। বাবা বলে, মামুনি বলে না আলু।” আমি তো পুরাই বেক্কল
হয়ে গেলাম! “যার জন্য করি চুরি, সেই বলে চোর” – অবস্থা।
গোসল করে টেবিলে বসে আছে আলু। খাওয়ার টাইম তার। বাসা থেকে
স্কাইপ করছে। আম্মু বলতেছেঃ “তুই কবে থেকে বিড়ি খাস?” আমিঃ “নাহ। ধুর। আমি বিড়ি
খাবো কেন?” আম্মু এই বার ক্ষেপে গিয়ে বলতেছেঃ “তোরা আমার কাছ থেকে গোপন করিস। আলু
তো আমাকে ঐ দিন বললঃ বাবা, ধোয়া খাচ্ছে।” ওহ শিট! আমি কফি খাওয়ার সময় গরম কফি থেকে
ধোয়া উড়তে থাকে, তার মা চা খেলেও ধোয়া উড়ে, সে থেকে তার ধারণা আমরা “ধোয়া” খাই। আর
ওর এই কথা শুনে বাসায় ভাবছে যে, আমি স্মোক করি। এখন তাকে চা – কফি ব্যাপারটা শিখানো
হচ্ছে। শিখাতে গিয়ে যথারীতি বিপত্তি ঘটলো, এখন সে আমার কাপ থেকে কফি নিয়ে খায় আর
তার মায়ের কাছ থেকে চা খায়। ফলাফলঃ রাত জাগা আলু! রাতে উঠে চিল্লায় আর বলেঃ “আলু
ঘুম না। পাপা-মামুনি ঘুম। আলু একা ভালো লাগে না।”
আলু সাধারনত আমরা যা খাই, তার মাঝে তার যেটা ভালো লাগে সে
সেটাই খায়। মাঝে মাঝে বিশেষ কোন কারণে, সে কোন খাবার চিনে ফেললে কয়েক দিন ঐ
জিনিসের নাম জপতে থাকে। ঐ দিন তার মা জিজ্ঞেস করতেসে আমাকে, কি খাবা? আলু তখন পাশ
থেকে আঙ্গুল দিয়ে তার চুল প্যাঁচায় আর বলেঃ “মামুনি, চুল চুল খাবে আলু।” আলু’র চুল
তার মায়ের মতই কোঁকড়া, প্যাঁচানো। আর ম্যাগি নুডুলস অনেকটা আলু’র চুলের মত। সে ম্যাগি
নুডুলসের নাম জানে না। তার কাছা কাছি কিছু একটা দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করল।
অনেক দিন পর স্ট্যাটাস দিলাম
ফেসবুকেঃ
“কোন দিন ভাবি নাই, এক মেঘলা দিনে “পানি
পানি” দিয়ে গোসল করে, ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে “ধোয়া” খাবো। আর শুধু তাই না, “ধোয়া” খেয়ে
পেট না ভরাতে “চুল চুল” খেলাম পেট ভরে। সবই আলু’র কেরামতি! আলু তুই জিনিয়াস, মা।”
No comments:
Post a Comment