আলু গত সপ্তাহে একটু অসুস্থ ছিল। জ্বর – ঠাণ্ডা। বাচ্চা মানুষ,
সে ঠিকভাবে বলতে ও পারে না তার কেমন লাগছে। তাই আমরা নিজের থেকে একটু পর পর জ্বর
মাপি, স্যুপ খাওয়াই। জ্বর মাপার সময় সে থার্মোমিটার প্রথম দেখে। আর প্রতিবার জ্বর মেপে
আমি আর ওর আম্মু আলাপ করি এখন কি অবস্থা। মাসাল্লাহ সে এখন পুরাপুরি সুস্থ। বাসায়
ফুল স্পীডে দৌড়া দেয় এদিক ওদিক। আর সকাল বিকাল আমার আর ওর আম্মুর কপালে হাত দিয়ে
বলেঃ “গরম জ্বর, গরম জ্বর”। তারপর গিয়ে থার্মোমিটার নিয়ে এসে মুখে গুজে দেয়। একটু
পর বের করে নিয়ে বিজ্ঞ ডাক্তারের মত দেখে লাইটের বিপরীতে রেখে দেখে। যদিও কিছুই
বুঝে না। তারপর বলেঃ “শুয়ে থাকো, মামুনি। নড়া চড়া করে না এক দম।” মাঝে মাঝে এক
স্টেপ বেশি করে। জ্বর মেপে বলেঃ “শুয়ে থাকো। আলু স্যুপ দেয়। গলম স্যুপ।” ঠিক আমরা
যা যা বলতাম, সে ঠিক তাই তাই বলে।
আমাদের বাসায় সব চেয়ে কমন ট্যাবলেট নাপা এক্সট্রা। সামান্য একটু
মাথা ব্যাথা করলেই আমরা নাপা এক্সট্রা খাই। সে দিন আলু বাসার সামনে খেলতে গিয়ে পড়ে
যায়, পায়ে ব্যাথা পায়। বাসায় নিয়ে এসে স্যাভলন দিয়ে মুছে দেয়া হচ্ছিলো, সে বলতেছেঃ
“মামুনি, আলু ব্যাথা। আলু নাপা একটা খাই। আলু ব্যাথা।” মোটামুটি ব্যাথার জন্য নাপা
এক্সট্রা প্রেস্ক্রাইভ করার মত জ্ঞান হয়ে গেছে তার।
স্কাইপে কথা বলার সময় আব্বু-আম্মু খোঁজ নেয় আমরা কি খাচ্ছি,
কি করছি, আলু কি করে – এই সব। আর আমরা খোঁজ নেই তাদের শরীরের অবস্থা কেমন, ব্লাড
প্রেসার কত, ব্লাড সুগার কত – এই সব। বার বার শুনে শুনে আলু এই সব কথাবার্তা মুখস্ত
করে ফেলছে। এখন স্কাইপেতে কল আসলেই সে দৌড়ে গিয়ে রিসিভ করে, আর মুখস্ত বুলির মত
বলতে থাকেঃ “পাপা বেশি ভাত, মামুনি মাঝারি ভাত আর আলু কম ভাত খায়। বাবা মাংস খায়,
আমি আলু খায়। আলু আজ পড়ে না। আলু পড়া ভালো লাগে না। আলু টিভি দেখে। টিভি মত করে
নাচি।” এটা বলেই সে আইপ্যাড টেবিলের উপর রেখে নাচ দেখাতে থাকে। কিছুক্ষণ নেচে ক্লান্ত
হয়ে গেলে আবার আইপ্যাড হাতে নিয়ে বলতে থাকেঃ “তুমি ভাত খাও? পেসার কত? সুগার কত?”
আমাদের কি কিছু জিজ্ঞেস করার বাকি রাখে না। তার কথা বলা শেষ হলে যখন আমি কথা বলতে
যাই তখন আর কথা খুঁজে পাই না। আব্বু-আম্মু বলে, আলু সব কথা বলে ফেলছে। আর সবাই
হাসতে থাকি।
No comments:
Post a Comment