বাসায় ছোট পিচ্চি কেউ থাকলে ঐ একজনের সাথে সাথে সবার পিচ্চি
হওয়া লাগে। সে যখন খেলে, তখন অন্যদের খেলা লাগে। সে দৌড়া দৌড়ী করলে অন্যদের দৌড়ানো
লাগে। তার অভিযোগ থাকলে সেই গুলো শুনা লাগে। শপিং মলে গেলে অন্য যে কোন দোকানের চেয়ে
খেলনার দোকানে বেশি সময় থাকা লাগে।
আমার ছোটবেলায় কেউ তেমন কোন খেলনা কিনে দেয় নাই। প্রেক্ষাপট
ভিন্ন ছিল আসলে। খেলনা কিনতে টাকা-পয়সা খরচ হত। আমাদের বাবা-মায়েরা ঐ টাকা ভালো
কাজে লাগানোর চেষ্টা করতো। আর তাদের জেনারেশনে এই সব ব্যাটারি চালিত খেলনার ব্যাপার
স্যাপার ছিল না। তাই তাদের কাছে এই সব ব্যাপার খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হত না। আর
ঐ সকল কিছু মিলিয়ে আমাদের মন থাকতো কখন মাঠে যাবো বিকাল বেলা। মাঠে গিয়ে খেলবো। সময়
এবং প্রেক্ষাপট সব কিছুই পাল্টে গেছে। সাথের পিচ্চিদের দেখে এরা এখন অনেক আবদার করে
আর এখন বাবা-মায়েরা নিজের থেকেই খেলনা কিনে দেয়।
আমরা মাসে কমপক্ষে ২ বার Toys”R”us এ যাওয়া লাগে। আলু গিয়ে কিছুক্ষণ এদিক ওদিক দৌড়া দৌড়ী করে। তারপর দেখতে
থাকে অন্যরা কি নিয়ে খেলছে, অন্য পিচ্চিরা কি কিনছে। সব দেখে বুঝে সে খেলনা নেয়া
শুরু করে। খুব সহজেই অনুমান করা যায়, মাসে দুই বার করে খেলনা কিনতে গেলে বাসার
অবস্থা কি হতে পারে। হুম। বাসা ভরে গেছে খেলনায়। সারা বাসায় এই সব ছড়ায় রাখার চেয়ে
আমরা আলু’র সব খেলনা একটা রুমে রাখলাম। এখন ঐ রুমে গেলেই মনে হয় আমরা Toys”R”us
এ চলে আসছি।
গত সপ্তাহে ডেভিড আসছিলো ওর মেয়েকে নিয়ে। লিনিয়া। ঐ পিচ্চিও
বয়স এবং আকারের দিক থেকে আলু’র মতন। আমরা যেহেতু গল্প করতেছি, তাই ভাবলাম ওদেরকে খেলায়
লাগিয়ে দেই। আমি ওদের দুইজনকে নিয়ে গিয়ে খেলনার রুমে রেখে আসলাম। ফিরে আসার একটু
পরেই দেখি চিৎকার শুরু হয়ে গেছে। কি হল দেখতে গেলাম। এক মহা কাণ্ড হয়ে গেছে। ঐ
রুমে পা ফেলা মুশকিল। সারা মেঝেতে খেলনা ছড়ানো। কিন্তু, লিনিয়া কোন একটা খেলনা
ধরলেই, ঐটা দিয়ে আলুকে ও খেলা লাগবে। অন্য কোনটা নিয়ে সে খেলবে না। লিনিয়া যদি তাকে
ঐ টা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন একটা ধরে, আলু সাথে সাথে গিয়ে লিনিয়ার হাত থেকে সেটা নিতে
চাইবে। এই টুকু পিচ্চিদের মাঝে সে কি এক মান অভিমান।
তারপর দুইজনকে তুলে নিয়ে আসলাম। আমাদের সামনে বসালাম আর লেগো
ধরায় দিলাম। আমার কাছে একমাত্র লেগো জিনিসটাকেই মনে হয় কাজের খেলনা। চিন্তা ভাবনা
করা লাগে। পিচ্চিদের তো আর এতো ধৈর্য নাই। আলু একটু চেষ্টা করে উল্টা পাল্টা
লাগলেই আমার কাছে নিয়ে আসে। “পাপা, গাড়ি হয় না। পাপা বানাও, গাড়ি বানাও।” তারপর
আমি বানায় দিলে সে এটা নিয়ে গিয়ে খুলে বসে বসে। তারপর আবার আসে। এই সাইকেল শেষ
হবার না। ব্যাপারটা শুধু আলু’র জন্য না, লিনিয়া ও একই কাজ করে। তারা নিজেরা খেলার
চেয়ে তাদের বাবা-মাকে বেশি ব্যাস্ত রাখে।
No comments:
Post a Comment